প্রথম অংশ : আর্য শব্দের অর্থের দ্বারা একটি নির্দিষ্ট ভাষাগােষ্ঠীকে বােঝায়। বস্তৃতপক্ষে, ইন্দোইউরােপীয় ভাষাভাষীদেরই আর্য বলে।
দ্বিতীয় অংশ :
■ বৈদিক বা ঋক-বেদের যুগে আর্যদের সামাজিক জীবন
১] পারিবারিক কাঠামাে : বৈদিক আর্যসমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল যৌথ পরিবার প্রথা। এই পরিবার ছিল একান্নবর্তী ও পিতৃতান্ত্রিক। পরিবারের সকলে পিতা বা বয়স্ক ব্যক্তির নির্দেশ অনুগতভাবে পালন করত।
২] নারীর স্থান : পুরুষতান্ত্রিক আর্যসমাজে নারীদের মান ছিল উন্নত এবং মর্যাদাপূর্ণ। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এযুগের নারীরা যথেষ্ট উৎকর্ষের পরিচয় দেন। অপালা, ঘােষা, মমতা, লােপামুদ্রা জ্ঞানগরিমায় খ্যাতিলাভ করেন। সাহিত্য চর্চার সঙ্গে সঙ্গে এযুগে মেয়েদের অসি চালনা, বর্শা চালনা এবং যুদ্ধবিদ্যার শিক্ষা দেওয়া হত।
৩] পােশাক ও খাদ্য : এই যুগে পরিধেয় বস্ত্র ও অলংকারের ক্ষেত্রে আর্য নারী ও পুরুষের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য ছিল না। আর্যদের পােশাকগুলি নিবি, বাস ও অধিবাস—এই তিন ভাগে বিভক্ত ছিল, যা সাধারণভাবে কার্পাস তুলা, পশম ও হরিণের চামড়া দিয়ে তৈরি করা হত।
■ ঋক-বৈদিক যুগে আর্যদের অর্থনৈতিক জীবন :
১] কৃষি ও ভূমি বণ্টন ব্যবস্থা : ঋক্-বৈদিক যুগের অর্থনীতির প্রধান অবলম্বন ছিল কৃষি ও পশুপালন। প্রথম দিকে পশুপালনই ছিল আর্যদের প্রধান জীবিকা। পরবর্তী সময়ে জীবিকার তাড়নায় আর্যরা ক্রমশ কৃষিকাজে মনােনিবেশ করে। কৃষি ছিল মানুষের প্রধান জীবিকা। এযুগের কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে প্রধান ছিল ধান, গম ও যব।
২] অন্যান্য বৃত্তির উদ্ভব : কৃষিভিত্তিক সমাজের চাহিদার ভিত্তিতে বৈদিক যুগে অন্যান্য বৃত্তির উদ্ভব হয়। ঋকবেদে সূত্রধর, চর্মকার, ছুতাের, তাঁতি ও কুমােরের উল্লেখ পাওয়া যায়।
৩] শিল্প : ঋকবেদের যুগের প্রধান শিল্প ছিল সুতি বা পশম বস্ত্রবয়ন। বস্ত্রবয়ন ছাড়াও এই যুগে কারিগরি শিল্পও উন্নতি লাভ করে।
Tags
History
