উত্তরঃ বর্তমান পৃথিবীতে বিশ্বায়ন একটি সর্বজনবিদিত বিষয়। শুধুমাত্র পৃথিবীর সম্বন্ধে এক নতুন চিন্তা ধারার
সৃষ্টি করেনি, রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক বিষয় গুলি কিভাবে নতুন রূপে আলোচনা করা হয়েছে। যোসেফ স্টিগলিৎস- এর মতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও
জনগণের মধ্যে এরূপ ঘনিষ্ঠতর সংহতির সাধারণ
যা পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে ক্রাশ করেছে এবং দ্রব্যসামগ্রীর,পরিষেবা,
পুজি, জ্ঞান এমন কি মানুষের বিশ্বব্যাপী অবাধ
যাতায়াতের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা কেউ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু পিটার মারকাস- এর মতে বিষয় হলো একটি প্রক্রিয়া
জাতি রাষ্ট্র সংক্রান্ত ধারণায় অবসান ঘটিয়ে
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক,সামাজিক,ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী আদান-প্রদান
চালানো সম্ভব হয়। বিশ্বায়নের প্রকৃতি- বর্তমানের
এই বিশ্বায়ন নতুন কিছু ধারণা বা মতাদর্শ নয়।
আমরা দেখেছি শিল্প বিপ্লবে পরবর্তীকালে উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলি
কাঁচামাল ও উদ্বৃত্ত মূল্য লুন্ঠনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেছে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ শতকের
সওর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদের স্বর্ণযুগ ছিল। তারপর নানা কারণে উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলি অর্থনৈতিক
সংকটের মধ্যে পরে, তখন নয়া উদারনীতি বাদের
প্রবক্তা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এর অবসান ঘটিয়ে অবাধ বাণিজ্য নীতি
তত্ত্ব প্রচার করেন। এই নয়া সাম্রাজ্যবাদী
লিস্পার শোষণমূলক চরিত্রটিকে আড়াল করা জন্য যে নতুন নাম দেওয়া হয় তাহলে বিশ্বায়ন।
অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন– প্রখ্যাত
অর্থনীতিবিদ অমিয কুমার বাগচী আর্থিক ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের কতগুলি গুরুত্বপূর্ণ দিক
এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এগুলি হল-ক) আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের প্রসার, খ) বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে লোকজনের অভিগমন ও নির্গমন, গ) বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থ বিনিময়ের মাধ্যমে
সঞ্চালন, ঘ)একদেশের পুজি অন্য দেশে বিনিয়োগের
মাধ্যমে যেখানে শিল্পজাত দ্রব্য, কৃষিপণ্য
অথবা পরিষেবা মূলক পণ্য উৎপাদন করে সংশ্লিষ্ট দেশে কিংবা অন্য দেশে বিক্রয়ের প্রবাহ
সৃষ্টি ইত্যাদি। রাজনৈতিক বিশ্বায়ন- বিশ্বায়ন
জাতিরাষ্ট্রের সম্পন্ন বিরোধী।কারণ জাতিরাষ্ট্র সেখানকার মানুষের সুখ-সুবিধা দেখার
জন্য দায়বদ্ধ থাকে এবং পুঁজির অবাধ মুনাফা
ও অবাত শ্বসনের উপর নানা ধরনের বাধানিষেধ আরোপ করে। বিষয়ক জাতীয় রাষ্ট্রকে অকেজো করে দেয়ার পক্ষপাতি
হলেও অসম্পূর্ণ’ বিলোপ সাধন চান না, কারন তাহলে
শোষণ ও বঞ্চনার দায় দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত তাদের উপরই বর্তাবে। তাই তারা চান এমন এক ধরনের জাতিরাষ্ট্র ভাজাভুজি
প্রতি স্বামীর সম্পত্তি ও একচেটিয়া নিজের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনে সীমাহীন হিংসার আশ্রয় গ্রহণ করতেও দ্বিধা করেনা। এভাবে জাতিরাষ্ট্রের গুরুত্ব রাস করে বিশ্বায়ন
স্বায়ত্তশাসনের নানাবিধ প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে আগ্রহী।
সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন- বিশ্বায়নের
একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন।
এরূপ বিশ্বায়নের লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপে একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা। ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক গন মাধ্যমের সাহায্যে
এরূপ সংস্কৃতি গড়ে তোলার কাজে আন্তর্জাতিক
গণমাধ্যম কর্পোরেশন আত্মনিয়োগ করে। তারা সাংস্কৃতিক
প্রবাহকে জাতিরাষ্ট্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে এক দেশের মানুষ সহ এবং অন্যান্য দেশের সংস্কৃতির
সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছে।
মূল্যায়ন- বিশ্বায়নের
প্রভাব তারা বিশ্বায়নকে বিশ্বের সংযুক্তি সাধনের এক স্বাভাবিক ও মহান প্রক্রিয়া হিসেবে
চিহ্নিত করলেও বাস্তবে এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,ও
ইউরোপের উন্নত দেশগুলির জাপানের মত সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। আর আমাদের মতন তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলির উপর বিশ্বায়নের
নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। স্টিগলিৎস এর মতে
আই I.M.W,W.T.O,বিশ্ব ব্যাংক দরিদ্রদের জন্য নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করার কথা
বললেও এই সংস্থাগুলির যে নীতি নিয়ে চলেছে
তাতে করে প্রায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলির মানুষের আর্থিক, সামাজিক নিরাপত্তা ভীষণভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই
আজ বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ শুরু হয়েছে।

