উত্তর: ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের উন্মাদনায় সারা বাংলা সেদিন দেশবন্দনা
বা মাতৃবন্দনায় সবর হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ১৯০৫ সালে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গমাতার
চিত্র অঙ্কন করলেন। পড়ে ভগিনী নিবেদিতা এর নাম দেন ভারতমাতা। গৈরিক বস্ত্রে মণ্ডিতা
এই মাতৃ মূর্তি চতুর্ভুজা যার চার হাতে রয়েছে পুস্তক, ধানের গোছা, শ্বেত বস্ত্র ও পুষ্পমালা।
অর্থাৎ সন্তানের প্রতি মায়ের দান - অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, দীক্ষা। স্বদেশী বাংলায় এই ছবি নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়।
এই ছবি নব-জাতীয়তাবাদের প্রতীক কে পরিণত হয়। ছবি নিয়ে তৈরি পতাকা তৈরি করেন জাপানি
শিল্পী ওকাকুরা এই পতাকা কাঁধে নিয়ে বিভিন্ন শোভাযাত্রা বেরতে হয়ে শুরু করে। ছবিটি
দেখে ভগিনী নিবেদিতা উচ্ছ্বাসিত হয়ে মন্তব্য করেন যে, হাতে অর্থ থাকলে নবভারতের প্রতীক
এই ছবিটি ছাপিয়ে কেদার-বদ্রির আশ্রম থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ভারতের প্রতিটি কৃষকের
ঘড়ে একটি করে উপহার দিতেন। অন্যদিকে ব্রাহ্মসমাজের অনেকেই কিন্তু এই মূর্তিপূজার বাড়াবাড়িতে
বিরক্ত হন। মুসলিম সমাজ বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নেয়নি। এ সত্ত্বেও বলতে হয় যে, অবনীন্দ্রনাথ
অঙ্কিত এই চিত্র দেশে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করে। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে এই চিত্রটি
জনসাধারণের মধ্যে প্রবল ভাবে জাতীয়তাবোধের বিকাশ ঘটায়। মূল চিত্রটি বর্তমানে রবীন্দ্র
ভারতী সমিতির সংগ্রহে রয়েছে ।
