উঃ প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের উপাদান হিসেবে মুদ্রার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সাহিত্য ও শিলালিপি থেকে যে সব তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলির সত্যতা যাচাই করতে মুদ্রা যথেষ্ট সাহায্য করে। মুদ্রাগুলিতে সাধারণত রাজার নাম, সন-তারিখ, রাজার মূর্তি ও নানা দেব-দেবীর মূর্তি খােদাই করা থাকে। কুষাণ-রাজ কণিষ্কের মুদ্রায় অঙ্কিত বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি থেকে তার সমন্বয়ী ধর্মীয় আদর্শের কথা জানা যায়। গুপ্তসম্রাট সমুদ্রগুপ্তের মুদ্রায় তাঁর বীণাবাদনরত মূর্তি তাঁর সংগীতানুরাগের পরিচয় বহন করে। এইসব মুদ্রা থেকে কেবলমাত্র রাজার নাম, রাজত্বকাল, তার শখ বা তাঁর উপাস্য দেব-দেবীর কথাই নয়—ধাতুশিল্প, শিল্পকলা, —ধাতুশিল্প, শিল্পকলা, রাজ্যে ব্যবহৃত লিপি এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থারও সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়। ভারতে প্রচুর পরিমাণ রােমান মুদ্রার অস্তিত্ব রােমের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক, ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের পরিচয় বহন করে। ভারতীয় প্রজাতান্ত্রিক রাজ্য মালব, যৌধেয় ও পাল প্রভৃতি সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্যের একমাত্র উপাদান হল মুদ্রা। মুদ্রার সাহায্য ব্যতীত এই রাজ্যগুলির ইতিহাস আমাদের অজ্ঞাতই থেকে যেত। মুদ্রা ব্যতীত ভারতে রাজত্বকারী গ্রিক, শক, পার্থিয়ান ও কুষাণদের কোনও ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হত না। কুষাণদের ইতিহাস রচনায় মুদ্রা মেরুদণ্ড' হিসেবে চিহ্নিত। ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে রাজত্বকারী ব্যাকট্রিয় গ্রিকদের ইতিহাস জানার একমাত্র উপাদান হল মুদ্রা। একমাত্র মুদ্রার সাহায্যেই এই অঞ্চলে রাজত্বকারী ত্রিশজন গ্রিক রাজার নাম ও তাঁদের রাজত্বকাল সম্পর্কে জানা গেছে।
Tags
History
