উত্তর : মনে হয় বর্তমান দুনিয়াতে
যেন তিনি নেই, পুরাকালের কোনো এক কুয়াশাঘেরা স্মৃতিচিত্রপট যেন তার চোখের সামনে এসে
উপস্থিত হয়েছে। প্রেমেন্দ্র মিত্রের তেলেনাপোতা আবিষ্কার’
গল্পে বাংলাদেশের এক অনামা গ্রাম তেলেনাপোতা আবিষ্কারের কথা বলা হয়েছে।
এ গল্পের গল্পকথক দুই বন্ধুসহ কলকাতা থেকে বাসে করে কাছের বাসস্টপে নেমে তেলেনাপোতা
যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি গোরুর গাড়িতে চেপে বসেছিলেন। কথকদের গোরুর গাড়িটি দুর্ভেদ্য
অন্ধকার জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে সামনের দিকে নিশ্চিন্তে এগিয়ে চলছিল। বেশ কিছুক্ষণ চলার পরে গাড়িটি যখন একটি বিরাট মাঠ পার হচ্ছিল, তখনই কথকরা
‘কৃষ্ণপক্ষের বিলম্বিত ক্ষয়িত চাদের দেখা পান। চাঁদের সেই আবছা আলোয় কথক দেখেন, চলমান
গোরুর গাড়ির দু-পাশে পুরোনো মন্দির এবং প্রাসাদের বিভিন্ন ভগ্নাংশ, যেমন স্তম্ভ, দেউড়ির
খিলান ইত্যাদি মহাকালের সাক্ষী হয়ে যেন দাঁড়িয়ে আছে। পথ চলতে চলতে, এই ভগ্নাবশেষ
দেখতে দেখতে কথকের মনে হয়, অস্পষ্ট, নির্বাক, বিশাল পাহারাদারেরা যেন গাড়িটির দু-পাশ
দিয়ে ক্রমাগত সরে সরে যাচ্ছে। গোরুর গাড়ির সংকীর্ণ ছইয়ের মধ্য থেকেই মাথাটা যথাসম্ভব
উঁচু করে কথক উৎসুক দৃষ্টিতে দুপাশের সেই দৃশ্য দেখতে থাকেন এবং রোমাঞ্চিত হয়ে পড়েন।
