উঃ সাহিত্যে নামকরণ বিশেষ তাৎপর্যবাহী। নামকরণের মধ্য দিয়েই কোনাে সাহিত্যকর্মের মূল বিষয়বস্তু অনুধাবন করা যায়। কোনাে ঘটনা, বিষয় বা প্রধান চরিত্রকে কেন্দ্র করে নামকরণ হয়ে থাকে। কোথাও কোথাও নামকরণ হয়ে থাকে প্রতীকী-ও। আলােচ্য কবিতাংশটির কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি নামকরণ বিষয়কেন্দ্রিক। কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি আরম্ভ’ -এর আংশিক পরিবর্তন করে
-আলোচ্য কবিতাংশটি নামকরণ করা হয়েছে কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি ।
গােটা কবিতাংশেই ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব, ধ্বংসলীলার বর্ণনা রয়েছে। সাতদিন ধরে চলেছে এই ঝড়-বৃষ্টি। হঠাৎ-ই আকাশের ঈশান কোণে অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব কোণে ঘন কালাে মেঘ জমা হয়। চারিদিক ছেয়ে যায় ধুলােয়, বইতে থাকে ধুলিঝড়। মাঠের শস্য হারায় তার সবুজ সতেজতা। নুইয়ে পড়ে ধুলি-বালির দাপটে। পরে প্রবল বৃষ্টির জেরে পুকুর-জলাশয় উপচে জল জমা হয় মাঠঘাট, পথ-উঠানে। নদীগুওি ফুলে ফেঁপে ওঠে। ঝড়-বৃষ্টি-বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টিতে বাড়িঘর, শস্য, গাছপালা সব নষ্ট হয়।নদীর জলের স্রোতে এসব ভেসেও যায়। বিপর্যয়ের প্রাবল্য আর ঘন কালাে দিবানিশি মিলিয়ে ঝড়-বৃষ্টির দিনগুলিতে কলিঙ্গবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, দেবী চণ্ডীর নির্দেশে বীর হনুমান কলিঙ্গের দেবালয়, বাড়িঘর ধ্বংস করেছে এবং নদনদীগুলির প্রবল স্রোতে সেসব ভেসে গেছে। দেবী চণ্ডী কলিঙ্গদেশ ধ্বংস করে গুজরাটে বসতি স্থাপন করতে চান। তাঁর এই ইচ্ছাপূরণের জন্যই ঝড়-বৃষ্টি-বজ্রপাত-বন্যাধ্বংসযজ্ঞ। গােটা কবিতাংশটিতে ঝড়-বৃষ্টির প্রাবল্য চোখে পড়ে। তাই কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি নামকরণ বিষয়কেন্দ্রিক ও যথাযথ হয়েছে।
Tags
Bengali
