সূচনা: আদিম মানুষ খাবার সংগ্রহের জন্য একস্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত, কিন্তু নতুন পাথরের যুগে এসে আদিম মানুষ যাযাবর জীবন ছেড়ে স্থায়ী জীবনে প্রবেশ করে। এটি সম্ভব হয় কৃষির উদ্ভাবনের ফলে।
যাযাবর জীবন থেকে স্থায়ী বসতি স্থাপন
■ প্রাথমিক অবস্থা : কৃষিখেতের পাশেই মানুষ স্থায়ী বসতি গড়ে তােলে। গাছের ডালপালা ও ঘাসপাতা দিয়ে তারা কুটির বানাতে শেখে। সুইটজারল্যান্ডের আদিম অধিবাসীরা হ্রদের মধ্যে খুঁটি পুঁতে তার ওপর মাচা বেঁধে বসবাস করত এমন নিদর্শনও মিলেছে| ছােটো ছােটো গাছের টুকরাে দিয়ে এইসময় ঘরের দেয়াল বানানাে হত৷ এই ঘরগুলির ছাদ ছিল তিন কোণবিশিষ্ট |
■ পরবর্তী অবস্থা: নতুন পাথরের যুগে মানুষ গােষ্ঠীবদ্ধভাবে নদী বা জলাশয়ের ধারে বাসগৃহ নির্মাণ শুরু করে। তাদের তৈরি বাসগৃহ ছিল তিন ধরনের—গুহা বসতি, স্থল বসতি, হ্রদ বসতি।
(i) স্থল বসতি: মাটির ওপর কৃষিজমির ধারে তৈরি হত স্থল বসতি। এই ধরনের ঘরের মেঝে হত নীচু। বড়াে বড়াে পাথরের চাই দিয়ে তৈরি হত ঘরের দেয়ালগুলি। পাথর ছাড়া মাটি, কাঠ, বাঁশ, চামড়া প্রভৃতি উপকরণকে কাজে লাগিয়ে স্থল বসতিগুলি নির্মিত হত।
(ii) হ্রদ বসতি: হ্রদের জলের মধ্যে এই ধরনের ঘর তৈরি করা হত। হ্রদে লম্বা খুঁটি পুঁতে তার ওপর পাটাতন বসিয়ে এই হ্রদ বসতি নির্মিত হত। সুইটজারল্যান্ডের নিউচ্যাটেল হ্রদে এই ধরনের বসতি তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
Tags
History
