সূচনা: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৮ হাজার অব্দ পর্যন্ত সময়কাল মাঝের পাথরের যুগ নামে পরিচিত। এইসময়ে উপমহাদেশের আবহাওয়া গরম হয়ে উঠলে মানুষের থাকার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে ওঠে।
মাঝের পাথরের যুগে আদিম মানুষের জীবনযাপনের ধারা
■ জীবিকা: আগের মতােই এই যুগেও উপমহাদেশের মানুষ খাদ্যসংগ্রহ ও শিকার করে জীবনযাপন করত। তবে এইসময় থেকে তারা ফলমূল, শামুক-ঝিনুক, মধু প্রভৃতি সংগ্রহের ওপর বেশি জোর দেয়।
■ হাতিয়ার: এইসময় হাতিয়ারগুলি আকারে আরও ছােটো হয় এবং উন্নত রূপ পায়। প্রধান অস্ত্র হিসেবে তিরধনুকের ব্যবহার শুরু হয়। হাতিয়ারগুলি গাছের ডালের সঙ্গে জুড়ে বা গেঁথে নেওয়া হত। উত্তরপ্রদেশের মহাদহা, মধ্যপ্রদেশের আদমগড় প্রভৃতি অঞ্চলে গাছের ডালযুক্ত হাতিয়ার মিলেছে| উত্তরপ্রদেশের সরাই নহর রাইতে দুই দিকে ধারওয়ালা ছুরির সন্ধান মিলেছে।
■ পশুপালন: উপমহাদেশে মাঝের পাথরের যুগে পশুপালনের প্রচলন ছিল| উত্তরপ্রদেশের সরাই নহর রাইতে বিভিন্ন রকমের বন্যপশুর হাড় মিলেছে। নর্মদা উপত্যকার আদমগড় অঞ্চলে ৮ হাজার বছরের পুরােনাে বন্যপশুর হাড় পাওয়া গেছে। এই পশুগুলির মধ্যে গবাদিপশু ও কুকুরের হাড়ও পাওয়া গেছে। এই পশুর হাড়গুলি দেখে অনুমান করা হয় যে ভারতীয় উপমহাদেশে মাঝের পাথরের যুগের মানুষ পশুপালন করতে শিখেছিল।
■ মাটির পাত্র নির্মাণ : রাজস্থানের বাগােড়ে আদিম মানুষের বসতির সন্ধান পাওয়া গেছে। জানা গেছে আদিম মানুষ পশুপালন করত। তাই দুধ ও অন্যান্য খাবার পাওয়ার সুবিধা ছিল। এগুলি রাখার জন্য তাদের দরকার পড়ে পাত্রের। তারা ঝুড়ির মতাে জিনিসে মাটি ঢেলে হাত দিয়ে লেপে মাটির পাত্রগুলি তৈরি করত।
Tags
History
