গুজরাটের শিল্পোন্নতির কারণগুলি আলোচনা করো।

উঃ গুজরাট হলো ভারতের একটি অন্যতম শিল্পোন্নত রাজ্য। এরাজ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় 20 হাজারেরও বেশি কল কারখানা আছে। শিল্প স্থাপনের বিভিন্ন অনুকূল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এরাজ্যে কার্পাস বয়ন, পেট্রো রাসায়নিক, সিমেন্ট, চিনি, লবণ, দুগ্ধ, জাহাজ নির্মাণ, কাগজ ইত্যাদি শিল্প গড়ে উঠেছে। এরাজ্য বর্তমানে ভারতের মোট উৎপাদনের 97% সোফা অ্যাশ, 65% খাদ্য লবন, 63% নাইট্রোজেন সার, 28% কার্পাস বস্ত্র, 68% বেবি ফুড, 87% মিল্ক পাউডার এবং 10% কাগজ উৎপাদন করে। এই রাজ্যের শিল্পের এই অভাবনীয় উন্নতির কারণগুলি হল-

১) খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য- এরাজ্যে আকরিক লোহা ছাড়া প্রায় সমস্ত রকম খনিজ পদার্থ তথা-বক্সাইট, চুনাপাথর, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, প্রাকৃতিক গ্যাস, লিগনাইট কয়লা, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, ফ্লুরাইড লবণ ইত্যাদি যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে এই সমস্ত খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য এরাজ্যের শিল্পোন্নতির অন্যতম প্রধান কারণ।

২) খনিজ তেলের প্রাচুর্য- গুজরাটে তেল শোধনাগার ও পেট্রোরসায়ন শিল্পের উন্নতি সর্বাধিক লক্ষ্য করা যায়, যার প্রধান কারণ হলো খনিজ তেলের সহজলভ্যতা। এ রাজ্যের কাম্বে, কালোল, আঙ্কেলেশ্বর ও আমেদাবাদে অবস্থিত তেলের খনির ওপর নির্ভর করে জামনগরে ভারতের বৃহত্তম খনিজ তৈল শোধনাগার গড়ে উঠেছে। এই তেল শোধনাগারের উপর নির্ভর করে জামনগর ও বরোদাতে ভারতের দুটি বৃহত্তম পেট্রো রাসায়নিক শিল্প গড়ে উঠেছে।

৩) কৃষিজ কাঁচামালের প্রাচুর্য- বিভিন্ন কৃষিজ কাঁচামাল প্রাপ্তির সুবিধা গুজরাটের শিল্পোন্নতিতে সহায়তা করেছে। উৎকৃষ্টমানের কার্পাস তুলোর ওপর নির্ভর করে এরাজ্যের আমেদাবাদ ভারতের শ্রেষ্ঠ কার্পাস বয়ন শিল্প কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।তুলো ছাড়াও অন্যান্য অর্থকরী ফসল তথা তামাক, চিনাবাদাম, সাদা জিরে, ইসবগুল ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে এরাজ্যে ভোজ্যতেল, সাবান, ঔষুধ, চিনি, মসলা, বনস্পতি ইত্যাদি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠেছে।

৪) শক্তি সম্পদের প্রাচুর্য- উকাই ও সর্দার সরোবর কেন্দ্রের জলবিদ্যুৎ, রাজস্থানের কোটা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং বিভিন্ন স্থানীয় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এরাজ্যের শিল্পের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা হয়।

৫) উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা- সড়ক, রেল ও বিমান পথে গুজরাট রাজ্য সমগ্র দেশের সঙ্গে যুক্ত বলে এরাজ্যের শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি এবং শিল্পজাত দ্রব্য অন্যান্য রাজ্যে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে সুবিধা হয়েছে।

৬) সুলভ শ্রমিক- মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও গুজরাট রাজ্যের পরিশ্রমী, কর্মঠ, দক্ষ ও শান্তিপ্রিয় শ্রমিকেরা এরাজ্যের শিল্পনীতিতে সহায়তা করেছে।

৭) মূলধন বিনিয়োগ- দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, দক্ষ ও শিল্পোদ্যোগী গুজরাটি, মারাঠি, ভাটিয়া, পার্সি ইত্যাদি সম্প্রদায়ের শিল্পপতিদের মূলধন বিনিয়োগ এরাজ্যের শিল্পটিকে ত্বরান্বিত করেছে।

৮) অন্যান্য কারণ- উপরিলিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও সুরাট, কান্ডালা ইত্যাদি বন্দরের সান্নিধ্য, পশ্চিমী দুনিয়ার সাথে স্বল্প দূরত্ব হেতু বহির্বাণিজ্যের সুবিধা, দেশে-বিদেশে শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা, আধুনিক ও সম্ভাবনাপূর্ণ শিল্পে মূলধন বিনিয়োগে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা এবং সর্বোপরি গুজরাট সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও শিল্পনীতি এরাজ্যের শিল্পোন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে


Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال