উঃ-আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদানের
প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরের মূল প্রকৃতি বা ধর্মের কোনো পরিবর্তন না হয়ে শিলা
যান্ত্রিক ভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ হলে, তাকে যান্ত্রিক আবহবিকার বলে। এই যান্ত্রিক আবহবিকার
প্রধানত উষ্ণ মরু অঞ্চলে বেশি সংঘটিত হয়। এর কারণগুলি হল-
(১) শিলা তাপের সুপরিবাহী না হওয়ায় উষ্ণ অঞ্চলে উষ্ণতার তারতম্যের ফলে
শিলাস্তরের ক্রমাগত প্রসারণ ও সংকোচন ঘটে । দীর্ঘদিন ধরে প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে
শিলাস্তর ফেটে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ছোটো ছোটো অংশে বিভক্ত হয় এবং কালক্রমে পরস্পরের
থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল শিলা স্তরের ওপরে অবস্থান করে, একে খন্ডবিখন্ডিকরণ বলে । শিলা তাপের
কুপরিবাহী বলে দিনের বেলায় অধিক উষ্ণতায় শিলার উপরিভাগ তাপ শোষণ করে প্রসারিত
হয় এবং রাত্রিবেলায় তাপ বর্জন করে সংকোচিত হয়। মরু অঞ্চলে দিন ও রাত্রির
উষ্ণতার প্রসর বেশি বলে ক্রমাগত শিলার উপরিভাগের এই সংকোচন ও প্রসারণ ঘটে থাকে। আবার
শিলাস্তরের নিম্নভাগের মধ্যে তাপ পৌঁছায় না বলে শিলার নিম্নভাগের সমপরিমাণ সংকোচন
ও প্রসারণ হয় না। ফলে শিলার মধ্যে পীড়নের সৃষ্টি হয় এবং শিলার উপরের অংশ
পেঁয়াজের খোসার ন্যায় খুলে যায়। এই ভাবে মরু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকারের
শল্কমোচন ঘটে।
(২) অনেক সময় প্রখর সূর্যকিরণে উত্তপ্ত শিলা নীচের স্তরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে
পেঁয়াজের খোসার মতো হয়ে যায়, একে শল্কমোচন বা গোলাকৃতি বিচূর্ণীভবন বলে । শিলা তাপের
কুপরিবাহী বলে মরু অঞ্চলে দিনের বেলায় প্রখর সূর্যকিরণে শিলা সমূহের উপরের স্তর
নিচের স্তর অপেক্ষা অধিক উষ্ণ ও প্রসারিত হয়। আবার রাত্রিবেলায়
শীতলতার প্রভাবে শিলা সমূহের উপরের স্তর নিচের স্তর অপেক্ষা দ্রুত ও অধিক সংকুচিত
হয়। এভাবে বহুদিন ধরে অসম সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলার উপরের স্তর ও নিচের
স্তরের মধ্যে পীড়নের সৃষ্টি হয়। এই পীড়ন তার নির্দিষ্ট সহ্যসীমা অতিক্রম করলেই
শিলাস্তরে অসংখ্য উল্লম্ব ও সমান্তরাল ফাটলের সৃষ্টি হয় এবং একসময় ঐ উল্লম্ব
ফাটল বরাবর উপরের শিলাস্তরটি চাঁই এর আকারে মূল শিলাস্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে
পড়ে।
(৩) বিভিন্ন শিলা মধ্যস্থ খনিজ পদার্থ গুলির তাপ ধারণ ও
বর্জন ক্ষমতা বিভিন্ন হয়। তাই মরু অঞ্চলে দিনের বেলায় সূর্যের উত্তাপে বিষম
প্রকৃতির শিলা মধ্যস্থ খনিজ গুলি বিভিন্ন পরিমান তাপ গ্রহণ করে অসম ভাবে প্রসারিত
হয়। আবার রাত্রিবেলায় শীতলতার প্রভাবে বিভিন্ন পরিমান তাপ বর্জন করে অসমভাবে
সংকুচিত হয়। এইভাবে অসম সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলা মধ্যস্থ খনিজ কণাগুলির মধ্যে
তথা শিলাস্তরের বিভিন্ন স্থানে পীড়ন ও টানের সৃষ্টি হয় এবং এক সময় শিলাটি শব্দ
করে ফেটে যায়। শিলাটি ফেটে গেলে তার ভেতরকার যোগসুত্র বস্তু নষ্ট হয়ে যায়। ফলে
প্রস্তরখন্ড ভেঙে গিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়।
