রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী ভাবনার মাধ্যমে কীভাবে প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটেছিল তা ব্যাখ্যা করাে।

ভূমিকা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঔপনিবেশিক শিক্ষাধারার সমালােচনা করেন এবং শান্তিনিকেতনে ‘ব্ৰত্মচর্যাশ্রম’ নামক এক বিদ্যালয় ও পরবর্তীকালে বিশ্বভারতী স্থাপন করে এক বিকল্পশিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা করেন। 

শান্তিনিকেতন ভাবনা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃকশান্তিনিকেতনে ব্ৰত্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল— 

(১) এরূপ আবাসিক ব্ৰত্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাচীন ভারতের ব্ৰত্মচর্যাশ্রমের গুরু-শিষ্য সম্পর্ককে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। 

(২) প্রকৃতি,মানুষ ও শিক্ষার মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে এক নতুন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। শিক্ষাব্যবস্থা : রবীন্দ্রনাথ তার এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন বা শিক্ষণ সম্পর্কে কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেন, যেমন- 

১) তিন নীতি : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার এই নতুন ধরনের।শিক্ষাব্যবস্থায় প্রকৃতির সঙ্গে যােগ রেখে মনের চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন এবং তিনটি নীতি প্রয়ােগ করেন যথা—অবাধ স্বাধীনতা, অবাধ চলাফেরা ও খেলাধুলা। 

২) সাংস্কৃতিক বিষয় : প্রকৃতি থেকে আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষার পাশাপাশি কলা, নৃত্য, নাটক, সংগীত, অঙ্কন প্রভৃতি উন্নত সাংস্কৃতিক বিষয়কে পাঠক্রমে রাখা হয়। 

৩) কারিগরি শিক্ষা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার এই বিদ্যালয়ে একই সঙ্গে ব্যক্তি ও সমষ্টির শিক্ষাদানের সঙ্গে সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থাও করেন বিশ্বভারতী।

বিশ্বভারতী ভাবনা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে যে সমস্ত আদর্শ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন সেগুলি হল—

১)ভারতীয় আদর্শ : শান্তিনিকেতনকে কেন্দ্র করে ভারতের আদর্শ ও বাণী বিশ্বে তুলে ধরার লক্ষ্যেই তিনি বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হন।

 ২) নিজের কর্তব্য সম্পাদন : রবীন্দ্রনাথ একজন ভারতীয়রূপে নিজের কর্তব্য সম্পাদনের জন্য বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা করেন। 

3) ভারতীয় সংস্কৃতি : ভারতের সমগ্ররূপ উপলব্ধি করতে ভারতের নানা সংস্কৃতিকে (বৈদিক, বৌদ্ধ, জৈন ও মুসলমান)তুলে ধরা। 

4) বিদ্যা উৎপাদন : তার মতে, বিশ্বভারতীর মূল কাজ হবে‌ বিদ্যাচর্চার উৎকর্ষ সাধন বিদ্যা বিতরণ হবে গৌণ কাজ। এই বা উদ্দেশ্যে বিশ্বের মনীষীদের আহ্বান করে বিশ্বভারতীতে তাঁদের আনার কাজ শুরু হয়। 

৫) উৎপাদন-শিক্ষা : শিক্ষার্থীদের অর্থশাস্ত্র, কৃষি তত্ত্ব, নানা ব্যাবহারিক বিদ্যাশিক্ষা ও বিশ্বভারতীর চতুর্দিকে তার প্রয়ােগের ব্যবস্থা করাও ছিল তার চিন্তা ভাবনার বিভিন্ন দিক। এরই সূত্র ধরে শ্রীনিকেতনের প্রতিষ্ঠা করা হয়।

উপসংহার : শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের পরিবর্তে প্রকৃতি মানুষ ও শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রচলিত এই শিক্ষা আনন্দপাঠ হলেও ঔপনিবেশিক কাঠামােয় তা সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال