শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ উপন্যাস থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ অধীনস্থ এক বাঙালি পুলিশকর্তা নিমাইবাবু। তিনি পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট হিসেবে চিহ্নিত ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন। বছর ত্রিশ-বত্রিশের ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্রের ফরসা রং রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছে। রোগা চেহারার মানুষটি যখন কাশতে কাশতে থানায় প্রবেশ করল তখন তার দেহের সামগ্রিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল সেটি দ্রুত বেগে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। কিন্তু তার রোগা মুখের দুটি চোখের দৃষ্টি ভারি অদ্ভূত। জলাশয়ের মতো গভীর সে চোখের সঙ্গে খেলা চলবে না। দূরে থাকতে হবে। সেই ক্ষীণ চোখের অতলে কোথাও যেন প্রাণশক্তি লুকিয়ে আছে, আর সে জন্যই সে বেঁচে আছে। গিরীশ মহাপাত্র যে অত্যন্ত শৌখিন মানুষ তা তার বেশভূষাতেই প্রমাণিত। চুলে বাহারি ছাঁট। তাতে সুগন্ধি নেবু তেল। গায়ে জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি। পকেটে বাঘ-আঁকা রুমাল। পরনে বিলেতি মখমল পাড়ের কালো শাড়ি। হাঁটু পর্যন্ত মোজা লাল রিবন দিয়ে বাঁধা এবং পায়ে নাল লাগানো বার্নিশ করা পাম্প শু। হাতে হরিণের শিং দিয়ে বাঁধানো বেতের শৌখিন ছড়ি। এসব দেখেই নিমাইবাবু রসিকতার ছলে কথাগুলি বলেছিলেন।
“বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে”- বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও ?
byLob (Admin)
-
0
