লাহোর প্রস্তাব ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বাধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনের এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সনদ।
১৯৪০ সালের ২৩ থেকে ২৫ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ২৭তম বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক (শের-এ-বাংলা) এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং ২৪ মার্চ এটি গৃহীত হয়।
লাহোর প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি: ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রসমূহ গঠনের কথা বলা হয়।
ভৌগোলিক সীমানা পুনর্নির্ধারণ: সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করে এমনভাবে সীমানা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়, যাতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশগুলো (যেমন: পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল) পৃথক ইউনিটে পরিণত হয়।
সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা: প্রস্তাবিত রাষ্ট্রসমূহ এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা ধর্মীয় ও সামাজিক সংখ্যালঘুদের জন্য সংবিধানে কার্যকর ও পর্যাপ্ত মৌলিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন: গঠিত প্রতিটি অংশ বা অঙ্গরাজ্য হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম।
সংবিধান প্রণয়নের পূর্বশর্ত: মুসলিমদের সম্মতি ও অনুমোদন ছাড়া ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য কোনো নতুন সংবিধান গ্রহণযোগ্য হবে না বলে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়।
| বিষয় | বিবরণ |
| পাকিস্তানের ভিত্তিপ্রস্তর | এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। |
| রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তন | লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের আন্দোলন স্বায়ত্তশাসন থেকে সরাসরি "স্বাধীন রাষ্ট্রের" দাবিতে রূপ নেয়। |
| দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রতিফলন | মুহম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory) এই প্রস্তাবের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। |
| বাংলাদেশ সৃষ্টির দূরবর্তী বীজ | মূল প্রস্তাবে "States" (স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি হিসেবেও আলোচিত হয়। |

