ফরাসি বিপ্লবের কারণ ও ফলাফল


ফরাসি বিপ্লব 

 (ফরাসিRévolution française) (১৭৮৯–১৭৯৯) ফরাসিইউরোপ এবং পশ্চিমা সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই বিপ্লবের সময় ফ্রান্সে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে প্রজাতান্ত্রিক আদর্শের অগ্রযাত্রা শুরু হয় এবং একই সাথে দেশের রোমান ক্যাথলিক চার্চ সকল গোঁড়ামী ত্যাগ করে নিজেকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য হয়। ফরাসি বিপ্লবকে পশ্চিমা গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি জটিল সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যার মাধ্যমে পশ্চিমা সভ্যতা নিরঙ্কুশ রাজনীতি এবং অভিজাততন্ত্র থেকে নাগরিকত্বের যুগে পদার্পণ করে। ঐতিহাসিকরা এই বিপ্লবকে মানব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসাবে বিবেচনা করেন।
কারণ -
ইতিহাসবিদরা বিপ্লবের দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সময়ের অনেক ঘটনা ও কারণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বৃদ্ধি[৪][৫] আলোকায়ন থেকে উদ্ভূত নতুন রাজনৈতিক ধারণা,[৬] অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত কারণগুলি কৃষির ব্যর্থতার দিকে পরিচালিত করে, নিয়ন্ত্রণহীন জাতীয় ঋণ,[৭] রাজা ষষ্ঠদশ লুইয়ের পক্ষ থেকে এবং রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা সবই কিছুকেই বিপ্লবের ভিত্তিপ্রস্তর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।[৮][৯][১০][১১]
ফরাসি বিপ্লবের রাজনৈতিক এবং আর্থসামাজিক বৈপ্লবিক প্রকৃতিকে ইতিহাসবিদরা একটি ধারণায় এনে বিশ্লেষণ করেন: বিপ্লবপূর্ব সরকারের প্রাচীন অভিজাত নীতি ও আইনসমূহ একটি উদীয়মান বুর্জোয়াতন্ত্রের উচ্চাভিলাষের খোরাক যোগাতে শুরু করে যা আলোকসম্পাতের দ্বারা ছিলো ব্যাপকভাবে আক্রান্ত। এই বুর্জোয়ারা শহরের বিশেষত প্যারিস এবং লিওনের চাকুরিজীবী এবং অত্যাচারিত চাষী শ্রেণীর সাথে মিত্রতা সৃষ্টি করে। আরেকটি ধারণা অনুসারে অনেক বুর্জোয়া এবং অভিজাত মহল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের চেষ্টা করতে থাকে যা পরবর্তীতে চাকুরিজীবী শ্রেণীর আন্দোলনগুলোর সাথে একাত্ম হয়ে যায়। এর সাথে এক হয় প্রাদেশিক চাষীদের আন্দোলন। এই ধারণা অনুসারে তাদের মধ্যে কোন মেলবন্ধন কেবল ঘটরাক্রমে হয়েছে, তা পরিকল্পিত ছিলোনা।
যে ধারণাকেই ধরা হোক না কেন, অ্যানসিয়েন সরকারের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিলো যা বিপ্লবের মূল হিসেবে পরিগণিক হতে পারে। একদিক দিয়ে সেগুলো ছিলো অর্থনৈতিক কারণ:
  • নিম্নমানের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বল্গাহীন জাতীয় ঋণ। এর মূল কারণ ছিল অসম করারোপণ যার বোঝা মোটেই বহনযোগ্য ছিলনা, সম্রাট লুই ১৬-এর অত্যধিক খরচ এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর বিভিন্ন যুদ্ধসমূহ।
  • বেকারত্বের উচ্চহার এবং খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্য।
  • বিপ্লবের ঠিক আগের মাসগুলোতে বিরাজমান খাদ্য সংকট
অপর দিকে এর পিছেন কিছু সামাজিক এবং রাজনৈতিক কারণ ছিল। আলোকিত সমাজ এই কারণগুলোকে কেন্দ্র করেই তাদের আন্দোলন শুরু করে যারা ছিল আলোকসম্পাতের যুগ দ্বারা প্রভাবিত। এই কারণগুলো হল:
  • নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের পুনঃস্থাপন যা রাজত্বের পক্ষে ছিল ক্ষতিকর।
  • সমাজের একটি বিশেষ পেশাদার শ্রেণী এবং উঁচুশ্রেণীর লোকদের ব্যাপক সুবিধা দেয়া হচ্ছিলো যা জনসাধারণের জীবনকে নিজের প্রভাবাধীনে রাখতে শুরু করেছিলো।
  • প্রচুর নারী নির্যাতন
  • কৃষক, চাকুরিজীবী শ্রেণী এবং কিছু পরিমাণ বুর্জোয়া কর্তৃক জমিদারতন্ত্রের উচ্ছেদের পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়।
  • বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারীর মধ্যে সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য, যাজকশ্রেণীর ভোগ-বিলাস চরমে উঠে। অপরদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে একটি জোয়ার সৃষ্টি হয়।
  • স্বাধীনতা এবং প্রজাতান্ত্রিক আদর্শের অনুপ্রেরণা।
সবশেষে যে কারণ সম্বন্ধে বলতে হয় তা হল এই সমস্যাগুলোর যেকোনটির সমাধানে সম্রাট লুই ১৬-এরv চূড়ান্ত ব্যর্থতা।
রাজকীয় সংকট -
ইতিহাসবিদরা বিপ্লবের দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সময়ের অনেক ঘটনা ও কারণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বৃদ্ধি[৪][৫] আলোকায়ন থেকে উদ্ভূত নতুন রাজনৈতিক ধারণা,[৬] অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত কারণগুলি কৃষির ব্যর্থতার দিকে পরিচালিত করে, নিয়ন্ত্রণহীন জাতীয় ঋণ,[৭] রাজা ষষ্ঠদশ লুইয়ের পক্ষ থেকে এবং রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা সবই কিছুকেই বিপ্লবের ভিত্তিপ্রস্তর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।[৮][৯][১০][১১]
ফরাসি বিপ্লবের রাজনৈতিক এবং আর্থসামাজিক বৈপ্লবিক প্রকৃতিকে ইতিহাসবিদরা একটি ধারণায় এনে বিশ্লেষণ করেন: বিপ্লবপূর্ব সরকারের প্রাচীন অভিজাত নীতি ও আইনসমূহ একটি উদীয়মান বুর্জোয়াতন্ত্রের উচ্চাভিলাষের খোরাক যোগাতে শুরু করে যা আলোকসম্পাতের দ্বারা ছিলো ব্যাপকভাবে আক্রান্ত। এই বুর্জোয়ারা শহরের বিশেষত প্যারিস এবং লিওনের চাকুরিজীবী এবং অত্যাচারিত চাষী শ্রেণীর সাথে মিত্রতা সৃষ্টি করে। আরেকটি ধারণা অনুসারে অনেক বুর্জোয়া এবং অভিজাত মহল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের চেষ্টা করতে থাকে যা পরবর্তীতে চাকুরিজীবী শ্রেণীর আন্দোলনগুলোর সাথে একাত্ম হয়ে যায়। এর সাথে এক হয় প্রাদেশিক চাষীদের আন্দোলন। এই ধারণা অনুসারে তাদের মধ্যে কোন মেলবন্ধন কেবল ঘটরাক্রমে হয়েছে, তা পরিকল্পিত ছিলোনা।
যে ধারণাকেই ধরা হোক না কেন, অ্যানসিয়েন সরকারের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিলো যা বিপ্লবের মূল হিসেবে পরিগণিক হতে পারে। একদিক দিয়ে সেগুলো ছিলো অর্থনৈতিক কারণ:
  • নিম্নমানের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বল্গাহীন জাতীয় ঋণ। এর মূল কারণ ছিল অসম করারোপণ যার বোঝা মোটেই বহনযোগ্য ছিলনা, সম্রাট লুই ১৬-এর অত্যধিক খরচ এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর বিভিন্ন যুদ্ধসমূহ।
  • বেকারত্বের উচ্চহার এবং খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্য।
  • বিপ্লবের ঠিক আগের মাসগুলোতে বিরাজমান খাদ্য সংকট
অপর দিকে এর পিছেন কিছু সামাজিক এবং রাজনৈতিক কারণ ছিল। আলোকিত সমাজ এই কারণগুলোকে কেন্দ্র করেই তাদের আন্দোলন শুরু করে যারা ছিল আলোকসম্পাতের যুগ দ্বারা প্রভাবিত। এই কারণগুলো হল:
  • নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের পুনঃস্থাপন যা রাজত্বের পক্ষে ছিল ক্ষতিকর।
  • সমাজের একটি বিশেষ পেশাদার শ্রেণী এবং উঁচুশ্রেণীর লোকদের ব্যাপক সুবিধা দেয়া হচ্ছিলো যা জনসাধারণের জীবনকে নিজের প্রভাবাধীনে রাখতে শুরু করেছিলো।
  • প্রচুর নারী নির্যাতন
  • কৃষক, চাকুরিজীবী শ্রেণী এবং কিছু পরিমাণ বুর্জোয়া কর্তৃক জমিদারতন্ত্রের উচ্ছেদের পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়।
  • বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারীর মধ্যে সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য, যাজকশ্রেণীর ভোগ-বিলাস চরমে উঠে। অপরদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে একটি জোয়ার সৃষ্টি হয়।
  • স্বাধীনতা এবং প্রজাতান্ত্রিক আদর্শের অনুপ্রেরণা।
সবশেষে যে কারণ সম্বন্ধে বলতে হয় তা হল এই সমস্যাগুলোর যেকোনটির সমাধানে সম্রাট লুই ১৬-এরv চূড়ান্ত ব্যর্থতা।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال