বৌদ্ধধর্মের মূল শিক্ষা ব্যাখ্যা করাে।



◆ বৌদ্ধধর্মের মতে, নির্বাণ’বা মুক্তিলাভ করাই হল মানবজীবনের মূল উদ্দেশ্য। নির্বাণের অর্থ হল, সমস্ত রকমের জাগতিক কামনা-বাসনার অবসান ও জন্মচক্র থেকে মুক্তি—অর্থাৎ বৌদ্ধধর্ম অনুসারে নির্বাণ হল শাশ্বত শান্তি। নির্বাণ হল সুখ-দুঃখ ও কামনা-বাসনার ঊর্ধ্বে এমন এক অবস্থা—যেখানে পৌঁছালে পাওয়া যায় অপার শান্তি ও অনন্ত সুখ। নির্বাণলাভ করলে আর জন্ম হয় না, সুতরাং দুঃখভােগ করতেও হয় না। বৌদ্ধধর্মের মতে, চরম ভােগবিলাস ও চরম কৃচ্ছসাধনা এই দুটি পন্থাই আত্মার উন্নতিতে বিঘ্ন ঘটায়। এই জন্যেই বৌদ্ধধর্মে এই দুই চরম পন্থার মঝঝিম বা মধ্যপন্থা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে—এই মধ্যপন্থাই’হল নির্বাণলাভের প্রধান পথ।

বৌদ্ধধর্মে চারটি মূল সত্যের কথা বিশ্লেষণ করা হয়েছে যা আর্যসত্যনামে অভিহিত, যেমন :
১) জগৎ দুঃখময়, 
২) জাগতিক কামনা বাসনা ও আসক্তিই হল মানুষের যাবতীয় দুঃখের কারণ, 
৩) দুঃখের কারণগুলি ধ্বংস করতে পারলে দুঃখের হাত থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়, 
৪) দুঃখের কারণগুলি ধ্বংসেরও উপায় আছে— মানুষের জীবনের এই চারটি সত্যকেই আর্যসত্য বলা হয়।

বৌদ্ধধর্মের মতে, পার্থিব ভােগতৃত্মার প্রতি মানুষের আসক্তি থেকেই দুঃখের জন্ম এবং ভােগতৃষ্যই ইহজগৎ থেকে মুক্তির পরিবর্তে মানুষের জন্মান্তর ঘটায়।

মানুষের আসক্তি বিনাশের জন্য বৌদ্ধধর্মে অষ্টাঙ্গিক মার্গ বা অষ্টমার্গ অর্থাৎ, আটটি পথের নির্দেশ বা সন্ধান দেওয়া হয়েছে, এগুলাে হল : 
১) সৎ সংকল্প, 
২) সৎ চিন্তা, 
৩) সৎ বাক্য, 
৪) সৎ ব্যবহার, 
৫) সৎ জীবনযাপন,
৬) সৎ প্রচেষ্টা, 
৭) সৎ দৃষ্টি এবং 
৮) সম্যক সমাধি। এই অষ্টমার্গবা অষ্টপন্থা অনুশীলন করলে মানুষের অন্তরে প্রজ্ঞা’রা পরম জ্ঞানের সঞ্চার হবে এবং এই পরম জ্ঞান থেকেই আসবে মানুষের পরম ‘মােক্ষ’ বা ‘নির্বাণ।

বৌদ্ধধর্মে কয়েকটি নৈতিক উপদেশও দেওয়া হয়েছে, যেমন : ‘পঞ্চশীল’ (হিংসা, পরস্বাপহরণ, ব্যভিচার, মদ্যপান ও মিথ্যাভাষণ থেকে বিরত থাকা) সমাধি (মনঃসংযােগ), প্রজ্ঞা (অন্তদৃষ্টি) প্রভৃতি।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال