মহেনজোদারাের ভগ্নাবশেষ থেকে সিন্ধু সভ্যতার নগরস্থাপত্য সম্পর্কে কী ধারণা পাওয়া যায় ? অথবা, হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।



◆ [১] প্রধান নগর পরিকল্পনা : সিন্ধু বা হরপ্পা সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, যে, এটি ছিল এক অতি উন্নত নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। হরপ্পা সভ্যতার মহেঞ্জোদারাে, হরপ্পা, কালিবঙ্গান, লােথাল প্রভৃতি নগরগুলি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার দুটি প্রধান দিক ছিল এই যে, প্রত্যেকটি নগর দুর্গ দ্বারা বেষ্টিত ছিল। উঁচু ঢিপির ওপর দুর্গ নির্মাণ করা হত। শাসকশ্রেণির লােকেরা দুর্গের অভ্যন্তরে বসবাস করতেন আর নগর দুর্গের নীচে অবস্থিত উপনগরীতে ছিল সাধারণ মানুষের বসবাস। দুর্গের নীচে প্রায় দেড় কিলােমিটার অঞ্চল জুড়ে প্রকৃত শহর বিস্তৃত ছিল।

[২] রাস্তাঘাট : সিন্ধু সভ্যতা বা হরপ্পা সভ্যতার প্রতিটি শহর ৩–১০ মিটার চওড়া রাজপথ দ্বারা কয়েকটি অংশে বিভক্ত ছিল। গলিপথগুলি ছিল বড়াে রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত।

[3] বসতবাড়ি : গলিপথের দুপাশে বসতবাড়ির অবস্থান ছিল। মহেঞ্জোদারাে ও হরপ্পা এই দুটি নগরের অধিকাংশ বাড়িই পােড়া ইট দিয়ে তৈরি হত। সাধারণত প্রাচীর দিয়ে ঘেরা প্রতিটি বাড়িতে স্নানাগার, কুয়াে ও নর্দমার ব্যবস্থা ছিল।

[৪] পয়ঃপ্রণালী ও জল নিকাশী ব্যবস্থা : হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলােতে বাড়ির ভেতর থেকে জল নিকাশের জন্য শাখা নর্দমাথাকত যারা সদর রাস্তার বাঁধানাে প্রধান নদৰ্মার সঙ্গে যুক্ত থাকত। এই জন্য ঐতিহাসিক ব্যাসাম বলেছেন—এর আগে বিশ্বের আর কোনাে দেশে এই ধরনের জল নিকাশী ব্যবস্থার নিদর্শন পাওয়া যায়নি।

[5] স্নানাগার ও শস্যাগার : হরপ্পা নগরের শস্যাগার ও মহেঞ্জোদারাের স্নানাগার দুটি ছিল সিন্ধু সভ্যতার সেরা নির্মাণ শৈলী।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال