প্রতিবাদী আন্দোলনের কারণ :
১| ধর্মীয় কারণ : বৈদিক যুগের শেষ ভাগে যাগযজ্ঞ, আড়ম্বর ও পশুবলি ধর্মানুষ্ঠানের প্রধান অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এযুগে যাগযজ্ঞ ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল, আচারসর্বস্ব ও সময়সাপেক্ষ। মূলত আর্থসামাজিক প্রশ্নেই সাধারণ মানুষ ক্রমশ এই ধর্মের প্রতি বিরূপ হয়ে উঠেছিল
● এই পটভূমিকায় বৌদ্ধ ও জৈনধর্মের প্রবক্তারা অহিংসা, জীবে দয়া প্রভৃতি আদর্শ প্রচার করলে তা বহুজনের কাছেই গ্রহণযােগ্য হয়ে ওঠে।
২| সামাজিক কারণ (বৈষম্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা ও জাতিভেদ প্রথা) :
১) বৈদিক যুগের শেষের দিকে আর্যসমাজ ব্রাত্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র —এই চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে বৌদ্ধ ও জৈন শ্ৰমণরা জাতিভেদহীন সমাজের কথা প্রচার করলে জনসাধারণের অনেকেই বিশেষত বৈশ্য ও শূদ্ররা এই ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
২) বৈদিকযুগের শেষ দিকে আর্যসমাজে নারীদের মর্যাদা অনেকাংশে কমে যায়। স্বাভাবিক কারণেই নারীসমাজ বৌদ্ধধর্মের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।
৩। অর্থনৈতিক কারণ : কৃষির উন্নতির সাথে সাথে এযুগে ব্যাবসাবাণিজ্যের দ্রুত প্রসার ঘটতে থাকে, কিন্তু বৈদিক ব্রাত্মণরা সমুদ্রযাত্রা, সুদের কারবার প্রভৃতির ওপর নানান রকম ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরােপ করেছিলেন। কিন্তু বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মে এইসব বিষয়ের ওপর কোনাে বিধিনিষেধ আরােপ করা হয়নি। প্রধানত এই কারণেই বৈশ্যরা বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। এই প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক রােমিলা থাপার বলেছেন যে, এই সময় ভারতের আর্থসামাজিক জীবনে বিভিন্ন পরিবর্তনের ফলে ধর্মীয় জীবনেও নানান পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল, যার অন্যতম ফলশ্রুতি হিসেবে বৌদ্ধ ও জৈনধর্ম দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে।
Tags
History

