১) সুমের অঞ্চলের সিলমােহর, দীপাধার ও খােদাই করা পাত্র মহেঞ্জোদারাে ও হরপ্পায় পাওয়া গেছে। এ থেকে মনে হয় জলপথে মিশর ও স্থলপথে সুমেরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সিন্ধুবাসীদের বাণিজ্যের চলাচল ছিল।
২) ঐতিহাসিক চাইল্ড (Child)-এর মতে, হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারাের শিল্পীরা তাদের পণ্যসম্ভার নিয়ে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদের উপকূলে অবস্থিত বাজারে বেচাকেনা করতেন।
৩) আনাতােলিয়ার কাতাল হুয়ুক, প্যালেস্তাইনের জেরিকো এবং পশ্চিম এশিয়ার আক্কাদ’অঞলে ভারতীয় বণিকদের উপনিবেশেরও অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
৪) মেসােপটেমিয়ার সঙ্গে হরপ্পার বণিকদের প্রধান বাণিজ্য-সম্ভার ছিল সুতির পােশাক পরিচ্ছদ। সেখান থেকে তাঁরা মূল্যবান পাথর ও কিছু বিশেষ ধরনের কাঁচামাল ভারতে আমদানি করতেন। সুতরাং বলা যায়, মিশরীয় ও অ্যাসিরীয় ব্যাবিলনীয় নগর সভ্যতার সঙ্গে হরপ্পা সভ্যতার যােগাযােগ ছিল।
৫) হরপ্পা সভ্যতার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত একই ধরনের বেলনীর মতাে সিলমােহরের নিদর্শন, মাতৃদেবীর পূজা, দেওয়াল কুলুঙ্গি, খিলান, একই ধরনের পশুমূর্তি প্রভৃতি সুমেরের উর, লাগাসপ্রভৃতি অঞ্চলে পাওয়া গেছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে অন্যান্য সমকালীন পশ্চিম এশিয়ার সভ্যতার সঙ্গে হরপ্পা সভ্যতার ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল।
৬) জলপথে মিশর ও স্থলপথে মেসােপটেমিয়াও সুমেরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সিন্ধুবাসীদের বাণিজ্যের চলাচল ছিল। গুজরাটের লােথালে আবিষ্কৃত প্রাগৈতিহাসিক জাহাজঘাটা এই অনুমানকে সত্যি প্রমাণ করেছে (H.D. sankhalia—Pre-Historic Civilization)
Tags
History

