সূচনা: শশাঙ্কের মৃত্যুর পর খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের মধ্যভাগ থেকে অষ্টম শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত (৬৫০-৭৫০ খ্রিস্টাব্দ) প্রায় একশাে বছর বাংলায় যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক অনাচার দেখা দেয়, সেই অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
মাৎস্যন্যায় ---
উৎস: মাৎস্যন্যায়’ শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায় বিখ্যাত তিব্বতী ইতিহাসবিদ লামা তারনাথের বর্ণনায় এবং কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে। এর পাশাপাশি বৌদ্ধগ্রন্থ আর্যশ্রীমূলকল্প থেকে এইসময়ের বাংলার দুর্দশার কথা জানা যায়।
স্বরূপ: প্রকৃতপক্ষে মাৎস্যন্যায়’ বলতে দেশে অরাজক অবস্থা বা স্থায়ী রাজার অভাবকে বােঝানাে হয়। মাৎস্যন্যায়’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হিসেবে মাছের মতাে আচরণকে বােঝায়। পুকুরের মাছ যেমন সুযােগ পেলে ছােটো মাছকে গিলে খায়, ঠিক তেমনি শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় শক্তিশালী বিত্তবান পুরুষেরা দুর্বল ও অসহায়দের সর্বস্ব আত্মসাৎ করত। এই অবস্থাই হল প্রকৃতরূপে মাৎস্যন্যায়।
পটভূমি: শক্তিশালী রাজতন্ত্রের পতনের পর গৃহবিবাদ, রাজবংশের দ্রুত পরিবর্তন ও ছােটো ছােটো প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি ছিল বাংলার সমকালীন চিত্র। ওই সময়ে বিভিন্ন ক্ষত্রিয়, ব্রাম্মণ, বগিক, সম্রান্ত লােকরা ইচ্ছেমতাে নিজ এলাকা শাসন করতেন। প্রকৃতপক্ষে বাংলায় কোনাে কেন্দ্রীয় শাসক ছিল না। রাজনৈতিক অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলার সুযােগ নিয়ে বিভিন্ন বৈদেশিক রাজন্যবর্গ এইসময় বারবার বাংলাদেশ আক্রমণ করতে থাকেন।
মাৎস্যন্যায়ের অবসান: মাৎস্যন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাংলার গণ্যমান্য মানুষজন (প্রকৃতিপুঞ্জ) অষ্টম শতকের মধ্যভাগে (আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ) সামন্তরাজ গােপালকে বাংলার সিংহাসনে বসান। গােপাল কঠোর হাতে মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান এবং ওই সময় থেকেই বাংলায় পাল বংশের শাসনের সূচনা ঘটে। মন্তব্য: মাৎস্যন্যায়ের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে জোর যার মুল্লুক তার, এই অবস্থার অবসান হয়। সমাজে শান্তি ফিরে আসে। বাংলার বুকে প্রতিষ্ঠিত হয় সাময়িক স্থায়ী শাসনব্যবস্থা।
Tags
History
