ভারত ছাড়ো আন্দোলনে মাতঙ্গিনী হাজরার ভূমিকা আলোচনা কর ।

ভারত ছাড়ো আন্দোলনে মাতঙ্গিনী হাজরার ভূমিকা আলোচনা কর ।

ভারত ছাড়ো আন্দোলনে মাতঙ্গিনী হাজরার ভূমিকাঃ  

১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলার মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার অন্তর্গত আলিনান গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস মাইতি। নিঃসন্তান অবস্থায় মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি বিধবা হন। কংগ্রেসি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ মাতঙ্গিনী হাজরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দান করেন। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হলে তিনি মাতঙ্গিনী হাজরা তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এবং লবণ আইন ভঙ্গ করে ৬ মাস কারাদণ্ড ভোগ করেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহাযজ্ঞে যেসব জাতীয়তাবাদী মহাসৈনিক নির্ভীক আত্মবলিদানে অমর হয়ে আছেন পরম গান্ধীবাদী সত্যাগ্রহী মাতঙ্গিনি হাজরা নিঃসন্দেহে তাঁদের অন্যতম । বাংলা দেশের মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার ৭৩ বছর বয়স্কা ওই বীরাঙ্গনা গান্ধীবুড়ি নামেই সমধিক পরিচিত ।বীরত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত  গান্ধীজীর আহ্বানে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ‘ ভারত ছাড়ো ’ আন্দোলন যখন কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো  সারা ভারতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাতঙ্গিনিও তখন ওই আন্দোলনে শামিল হন । ২৯ সেপ্টেম্বর ( ১৯৪২ খ্রি. ) তাঁর নেতৃত্বে কুড়ি হাজার মানুষের এক মহামিছিল বিভিন্ন দিক থেকে তমলুক থানা ও আদালত ভবন দখল করার জন্য অগ্রসর হয় । ওই সময় পুলিশের বর্বর গুলিবর্ষণে নিরস্ত্র মাতঙ্গিনি শহিদের মৃত্যু বরণ করেন । পর পর গুলির আঘাত সত্ত্বেও দৃঢ়মুষ্টিতে জাতীয় পতাকা উর্ধ্বে তুলে ধরে তিনি মিছিলের পুরোভাগে অগ্রসর হচ্ছিলেন । এমন সময় আরও একটা গুলি তাঁর বুকে লাগলে তিনি বন্দেমাতরম্ ধ্বনি উচ্চারণ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন । যে অসীম সাহস , অফুরন্ত মনোবল ও গভীর স্বদেশপ্রেমের পরিচয় বৃদ্ধা মাতঙ্গিনি দেখিয়ে গেছেন , তার তুলনা বিরল ।   

উপসংহারঃ  মাতঙ্গিনি হাজরা যেভাবে ভারতমাতার পরাধীনতার অমনিশা কাটানোর লক্ষ্যে আত্মবিসর্জন দিয়েছিলেন তা পরবর্তী প্রজন্মের নারীদের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল ।

 

 

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال