'পুনর্বাসনের যুগ’ বলতে কী বােঝাে?

উত্তর:
ভূমিকা  স্বাধীনতার পর ভারতে উদবস্তু সমস্যা চরম আকার ধারণ করে। এ ছাড়া ওই সময় বেকারত্ব, দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট, চিকিৎসার অভাবও তীব্র হয়ে ওঠে। শরণার্থীদের সমস্যা, তাদের পুনর্বাসনের ওপর স্বাধীনতার পরবর্তীকালে প্রথম পাঁচ বছর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ওই সময়কে পরবর্তীকালে ‘পুনর্বাসনের যুগ বলা হয়।
পুনর্বাসনের যুগের সমস্যা ও গৃহীত সমাধান সমূহঃ স্বাধীনতার পর প্রথম পাঁচ বছর উদ্বাস্তু সমস্যাসমাধানের ওপর অত্যধিক জোর দেওয়ায় ওই সময়পর্বকে পুনর্বাসনের যুগ বলা হয়। ওই সময় যে বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হয়েছিল তা হল ---

(১) খাদ্যসংকট নিরসন স্বাধীনতার পর অসংখ্য ছিন্নমূল মানুষ ভারতে আসে। ভারত তখন খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভর না হওয়ায় ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে বিদেশ থেকে ৩৭ লক্ষ টন খাদ্যশস্য আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়। তা ছাড়া প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির দিকেও নজর দেওয়া হয়।
(২) আর্থিক উন্নয়ন  আর্থিক উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ, সেচের প্রসার, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, শিল্পের অগ্রগতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদ্বাস্তুদের কর্মসংস্থানের দিকেও লক্ষ রাখা হয়।
(৩) পুনর্বাসন  আলােচ্য সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া ৫০-৭০ লক্ষ শিখ ও হিন্দু শরণার্থী, পূর্ব পাকিস্তান ও থেকে আসা ১০-১৫ লক্ষ শরণার্থীর পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়। তাদের গৃহ প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা ও নানা সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
(৪) সরকারি দৃষ্টিকোণ  উদ্বাস্তুদের প্রতি সরকার সহৃদয় মনােভাব নিয়েছিল। নেহরু বলেছিলেন, “যেসব ছিন্নমূল মানুষ ভারতে বসবাসের জন্য এসেছেন তাদের নিশ্চয়ই নাগরিকত্ব থাকবে। এ ব্যাপারে আইন যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে আইন পরিবর্তন করতে হবে।” 
উপসংহার :পুনর্বাসনের যুগের প্রতিফলন দেখা যায় প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়। এ ছাড়া নানা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের ফলে ওই সময় উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন পর্ব চলতে থাকে।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال