উত্তর: আজাদ হিন্দ বাহিনীর সেনাদলের বিচার এবং নৌ বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে গণ প্রতিবাদ ব্রিটিশ সরকারের পরাজয়কে সহজতর করে। পাশাপাশি আরও কিছু স্থানীয় বিদ্রোহ পতনােন্মুখ ব্রিটিশ সরকারকে বহিষ্কারের কাজ দ্রুততর করে তাতে কোনাে সন্দেহ নেই। এইসব বিদ্রোহ ও বিক্ষোভগুলির মধ্যে রশিদ আলি দিবস’ পালন এবং এই উপলক্ষ্যে বিক্ষোভের কথা বলাই যায়। আজাদ হিন্দ বাহিনীর ক্যাপটেন রশিদ আলিকে ব্রিটিশ সামরিক বিচার বিভাগ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করলে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতা প্রবল প্রতিবাদে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। মুসলিম ছাত্র লিগ, ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় এবং তাকে সমর্থন জানায় বাম প্রভাবিত ছাত্র ফেডারেশন। এই ধর্মঘটের সমর্থনে ছাত্র, শ্রমিক, হিন্দু-মুসলিম একত্রিত হয়ে অবরােধ গড়ে তােলে ও প্রতিবাদ মিছিল বার করে। ট্রাম, বাস ও রিকশা চালকরাও ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ায়। কলকাতার পাশাপাশি মফস্সল শিল্পাঞ্চলগুলিতে বিশেষত, হাওড়া, হুগলি, চব্বিশ পরগনায় ধর্মঘট সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র দাঙ্গায় বহু ব্যক্তি আহত ও নিহত হন। ইতিহাসবিদ গৌতম চট্টোপাধ্যায় ওই দিনের ঘটনাকে, ‘প্রায় বিপ্লব’ (Almost Revolution) বলে অভিহিত করেছেন। অমৃত বাজার পত্রিকা এই ঘটনাকে‘প্রকৃত গণ অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যা দেয়।
Tags
History
