উত্তর: কোনাে সাম্রাজ্যই হঠাৎ করে ধ্বংস হয় না। রােমান সাম্রাজ্যের পতনও এর ব্যতিক্রম নয়। রােমান সাম্রাজ্যের পতনের জন্য দুর্বল, অত্যাচারী, অপদার্থ, বিলাসী রােমান সম্রাটদের যথেষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। সাধারণ মানুষ অত্যাচারিত ও শােষিত হতে হতে একসময় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। উচ্ছল সেনাবাহিনী দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেয়। এইরকম অবস্থায় জার্মান উপজাতিগুলি হন আক্রমণ থেকে বাঁচতে রােমান সাম্রাজ্যে প্রবেশ করতে থাকে। ফ্রাঙ্ক, গথ, ভিসিগথ, ভ্যান্ডাল, লম্বার্ড ইত্যাদি উপজাতিগুলি সুযােগ পেলেই রােমান সাম্রাজ্য আক্রমণ করে লুঠপাট করত। ধীরে ধীরে জার্মানরাই রােমান সাম্রাজ্যে তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। ইটালিতে অস্ট্রোগথ, স্পেনে ভিসিগথ, ফ্রান্সে ফ্রাঙ্ক, সার্ভিনিয়ায় ভ্যাণ্ডলরা বসতি স্থাপন করলে মূল' রােম সাম্রাজ্য থেকে পশ্চিম ইউরােপ সংযােগ হারায়।
রােমান সাম্রাজ্যের আর্থ-সামাজিক ভিত্তি ছিল দাস প্রথা। অভিজাত ভূস্বামীদের অত্যাচারে দাসরাও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং দাস বিদ্রোহ রােমান সাম্রাজ্যের ভিতকে ধ্বংস করে দেয়। দাস প্রথা ভেঙে পড়লে রােমে শ্রমশক্তির অভাব দেখা দেয়।
রােম সাম্রাজ্যের ভিত্তি নির্ভরশীল ছিল ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্য, সর্বজনীন শান্তি ও শৃঙ্খলাবােধ, ধর্মসহিষ্ণুতা ও সৈন্যবাহিনী—এই চারটি বিষয়ের উপর। কিন্তু ক্রমশ এই চারটি বিষয়েই ভাঙন দেখা দেয়। এছাড়া রােমান সাম্রাজ্যে দুর্ভিক্ষ ও মহামারি সাম্রাজ্যের ভিতকে দুর্বল করে দেয়। এইরকম অবস্থায় ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে জার্মান সেনাপতি অডােয়েকার রােম সাম্রাজ্যের পতন ঘটান।
Tags
History
