উত্তর: ‘কর্তার ভূত’ রচনাটিকে রবীন্দ্রনাথ সাজিয়েছেন মঙ্গলকারী বাস্তুভূতের লােকপ্রচলিত সংস্কারকে ভেঙে। রবীন্দ্রনাথ যখন বলেন—‘আমাদের সেই সর্বাঙ্গসম্পন্ন প্রাচীন সভ্যতা বহুদিন হল পঞ্চত্বপ্রাপ্ত হয়েছে, আমাদের বর্তমান সমাজ তারই প্রেতযােনি মাত্র’, তখনই ‘কর্তার ভূত’-এর পূর্বাভাস আমরা পেয়ে যাই।
আমাদের সমাজের দিকে তাকালে যে একটা আশ্চর্য আপাত শান্তির ভাব চোখে পড়ে, তারই আড়ালে যে স্থবিরত্ব, মানসিক ক্লীবতা ও দুর্বলতা, ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্নতা আছে, সেটিকেই রবীন্দ্রনাথ কর্তার রূপকে হাজির করেছেন তাঁর এই রচনায়। প্রাচীন বিশ্বাসরূপ ভূতের কাছে যাবতীয় চিন্তাচেতনা বন্ধক রেখে এক নিষ্প্রাণ সমাজ ক্রমশ গড়ে উঠেছে। কিন্তু সে সমাজ তাে পৃথিবী থেকে আলাদা নয়। অন্যান্য দেশের সমাজের মধ্যে যে অগ্রগামিতা রয়েছে, নতুন চেতনার যে ঔজ্জ্বল্য সেখানে বিরাজমান, তার তুলনায় নিজেদের সমাজের বদ্ধরূপ স্বাভাবিকভাবেই বর্গির হানার মতাে কয়েকজনের মনে আন্দোলন জাগায়। কর্তার ভূত’ রচনার চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায় এই প্রশ্নগুলিকেই তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত ছড়ার মােড়কে।
অতীত-আবিষ্ট, অভিশপ্ত এদেশের সমাজচিত্ৰই এ রচনার বিষয়বস্তু। তবে, এ রচনায় এই বিষয়টিকে প্রকাশ করতে লেখক গ্রহণ করেন গল্প বলার এক বিশেষ ভঙ্গিকে। তবে, বক্তব্য প্রাধান্য পেলেও কর্তার ভূত’ ‘প্যারাবল’ নয়। একে রূপক ব্যঙ্গ বা রূপকধর্মী ছােটোগল্পই বলা সংগত।
Tags
Bengali
