রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কর্তার ভূত’ রচনায় ‘দেশসুদ্ধ সবাই’ বলতে কোন্ ধরনের মানুষের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কর্তার ভূত’ রচনায় তৎকালীন সমাজের ভীরু, উদ্যমহীন ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের কথা বলতে গিয়ে ‘দেশসুদ্ধ সবাই’ শব্দগুচ্ছ প্রয়ােগ করেছেন।

● বুড়াে কর্তা মারা যাওয়ার সময় দেশসুদ্ধ সবাই’ অর্থাৎ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বা দেশের বেশিরভাগ জনগণ তাঁকে জানায় যে, তিনি মারা যাওয়ার পর তাদের অবস্থা আরও করুণ হয়ে পড়বে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য দেবতার ইচ্ছাতে বুড়াে কর্তা যখন ভূত হয়ে তাদের ঘাড়ে চেপে রইলেন, তখন দেশবাসী নিশ্চিন্ত হল। কারণ, ভবিষ্যৎকে মানার ক্ষেত্রেই ভাবনাচিন্তার প্রশ্ন আসে, ভূতকে মানার ক্ষেত্রে সেরূপ কোনাে দুশ্চিন্তা নেই। সমস্ত দায়িত্ব সেক্ষেত্রে ভূতের ওপর বর্তায়। দেশসুদ্ধ লােক তাই ভূতেপাওয়া অবস্থা প্রাপ্ত হয়ে, দেশের তত্ত্বজ্ঞদের বিধান অনুসারে চোখ বুজে জীবন কাটাতে থাকে। তত্ত্বজ্ঞানীদের এই রক্ষণশীল বিধান শুনে দেশবাসী তাদের প্রাচীন কৌলীন্য ও আভিজাত্য অনুভব করে এবং আনন্দিত হয়।
ভূতের রাজত্বে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণকে যে ঘানি ঘঘারাতে হয়, তা থেকে এক ছটাক তেলও বের হয় না, বের হয় কেবল পেষণকারীর তেজ—আর তার ফলে মানুষ ক্রমশ ঠান্ডা হয়ে যায়। ফলে এই ব্যবস্থায় মানুষের অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের সংস্থান না হলেও সমাজে শান্তি বজায় থাকে।

ভূত শাসনতন্ত্রে দেশবাসী সর্বদা একথা ভেবে আত্মশ্লাঘা বা গৌরব অনুভব করত যে, খোঁটায় বাঁধা ভেড়া যেমন ভাবা মা না করে মাটিতেই পড়ে থাকে, তাদের ভবিষ্যৎও তেমনি ভূতের খোঁটায় বাঁধা—‘যেন একেবারে চিরকালের মতাে মাটি।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال