উত্তর: ‘কর্তার ভূত’ রচনায় লেখক ধর্মতন্ত্রের দ্বারা শাসিত জনসাধারণের সেই বেশিরভাগ অংশ, যারা ভীরু ও উদ্যমহীন,তাদেরই ‘দেশসুদ্ধ সবাই’ বলে উল্লেখ করেছেন আর দেশের চিন্তাশীল নাগরিকদের, যারা যুক্তির আলােকে দেশের প্রাচীন সংস্কারের মায়াজাল থেকে নিজেদেরকে এবং দেশবাসীকে বের করে আনতে চাইছে, তাদের স্বভাবদোষে যারা নিজে ভাবতে যায়’-এর পর্যায়ভুক্ত করেছেন। মৌলিক চিন্তার অধিকারী এইসব হুঁশিয়ার মানুষ কখনােই গড্ডলিকা-প্রবাহে গা ভাসায় না বলে তাদের ভাগ্যে জোটে ভূতের কানমলা’। আর এই ভূতের কানমলা যেহেতু খালি চোখে দেখা যায় না, তাই তা থেকে নিজেকে যেমন ছাড়ানাে যায় না, তেমনি সেখান থেকে পালানােও সম্ভব হয় না হুঁশিয়ারদের। এমনকি সেই ‘বিনা অপরাধের শাস্তির জন্য কোথাও অভিযােগও করা যায় না। কেননা, ভূতের বিরুদ্ধে অভিযােগ জানানাের কোনাে ব্যবস্থাই যে নেই। তা ছাড়া, ভূতুড়ে জেলখানার অধিবাসী এইসব মানুষ সেই জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও সেই ভূতুড়ে কারাগারের পাঁচিল যেহেতু চোখে দেখা যায় না, তাই বােঝাও যায় না কীভাবে তাতে ছিদ্র করে বাইরে বেরােনাে সম্ভব। অর্থাৎ, ধর্মতন্ত্র বা সংস্কারের বেড়িকে যারা অক্ষয় আশীর্বাদ বলে মানতে পারে না, সেইসব চিন্তাশীল মানুষের ওপর ধর্মতন্ত্রের শাস্তি চিরকালই বর্ষিত হতে থাকে।
Tags
Bengali
