উত্তর: রবীন্দ্রনাথের ‘লিপিকা’ গদ্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘কর্তার ভূত’ রচনার বাইরের গৌণ আখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে আছে। আরও একটি সমান্তরাল ভেতরের আখ্যান—সেটিই মুখ্য। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে য়ুরােপ যাত্রীর ডায়রি’র ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ বলেন, “আমাদের সেই সর্বাঙ্গসম্পন্ন প্রাচীন সভ্যতা বহুদিন হল পঞ্চত্বপ্রাপ্ত হয়েছে, আমাদের বর্তমান সমাজ তারই প্রেতযােনি মাত্র। এই পঞ্চত্বপ্রাপ্ত, সর্বাঙ্গসম্পন্ন প্রাচীন সভ্যতাই কর্তার ভূত’ গল্পের কর্তা এবং সেসভ্যতার ‘ধর্মতন্ত্রই হল তার ভূত। এ গল্পে বুড়াে কর্তার ভূত দেশের অমঙ্গল ছাড়া কোনাে মঙ্গল করেনি, যেমন ধর্মতত্ত্ব আধুনিক ভারতবর্ষের কোনাে অগ্রগতি বা উন্নতি ঘটায়নি। রবীন্দ্রনাথ এ রচনায় দেখিয়েছেন যে, প্রাচীন সভ্যতার অবসান হলেও সে সভ্যতার ধর্মতন্ত্র আধুনিক ভারতবর্ষকে কেমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। ফলে যুক্তিবুদ্ধি-বিচারবিবেচনাহীন হয়ে পরাধীন দেশবাসী সেই ধর্মতন্ত্রকে আঁকড়ে ধরে ঘুমের ঘােরে দিন কাটিয়ে চলেছে।
কর্তার ভূত’ রচনাটিতে বিদগ্ধ ভাষাভঙ্গিই প্রাধান্য
পেয়েছে। ঘুমন্ত ভূত শাসনতন্ত্রে বুলবুলির ধান খেয়ে যাওয়ার পর যখন বর্গি এল দেশে’,তখন মাসিপিসি বলেছে, “বুলবুলির আঁককে কৃয়নাম শােনাব, আর বর্গির দলকেও।” এ গল্পে ত্রৈলােক্যনাথ মুখােপাধ্যায়ের কঙ্কাবতী’ রচনার মতাে উদ্ভট কল্পনাও আমরা লক্ষ করি, যখন দেখি যে অনবরত ঘুরে-চলা ভূতুড়ে জেলখানার ঘানি থেকে তেলের বদলে দেশবাসীর তেজ বেরিয়ে যাচ্ছে। তবুও একে ‘প্যারাবল’ (Parable) বলা যায় না।
'কর্তার ভূত’ রচনাকে কোনাে একটি নির্দিষ্ট অভিধায় তাই বেঁধে ফেলা কঠিন। তবে একে ‘রূপকধর্মী ছােটোগল্প’ হিসেবে উল্লেখ করা যেতেই পারে।
Tags
Bengali
