বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে হুতােম প্যাঁচার নকশা'র অবদান সংক্ষেপে আলােচনা করাে।

উত্তরঃ 
হুতােম প্যাঁচার নকশা : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কালীপ্রসন্ন সিংহের ‘হতােম পঁচার নকশা’ একটি উল্লেখযােগ্য গ্রন্থ 
হুতােম প্যাঁচার নকশা’র প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে ; প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে। যে-সময়ে হুতােম প্যাচার নকশা প্রকাশিত হয় সে-সময়ে বাংলা গদ্যের ক্ষেত্রে সাধু ভাষারই একাধিপত্য ; কোথাও কোথাও দেখা যেত সাধু-চলিতের অবাধ মিশ্রণ। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থে সেকালের তুলনায় অনেক সহজ ভাষা ব্যবহৃত হলেও সেই রচনায় সাধু-চলিতের সংমিশ্রণ ছিল বেশ প্রকট। কালীপ্রসন্ন সিংহের ‘হতােম পাচার নকশা' গ্রন্থটি পুরােপুরি বাংলা চলিত গদ্যে লেখা প্রথম গ্রন্থ। এর মধ্যে তৎকালীন কলকাতার সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অবিকল ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি লােকমুখে উচ্চারিত ধ্বনিরূপ অক্ষুন্ন রাখার জন্য তিনি বানানকেও উচ্চারণ অনুযায়ী করার চেষ্টা করেছেন।

‘হুতােম প্যাঁচার নকশা নামটিতেই বােঝা যায় এটি গল্প-উপন্যাস, নাটক বা প্রবন্ধ গ্রন্থ নয়—এটি একটি নকশাজাতীয় রচনা। কালীপ্রসন্ন সিংহ হুতােম প্যাঁচা’ ছদ্মনাম গ্রহণ করে এই নকশা রচনা করেছেন। হুতােম তাঁর সমকালীন সমাজকে নানাদিক থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন আর অত্যন্ত সরস অথচ অকপট ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন সেই অভিজ্ঞতাকে। গাজন, চড়ক, দুর্গোৎসব, মাহেশের রথ প্রভৃতি উৎসবের বর্ণনা যেমন পাওয়া যায় এই নকশায়, তেমনি পাওয়া যায় জমিদার, ভিখারি, কেরানি, দোকানি, হাটুরে, পুরুত ঠাকুর প্রভৃতি পেশার মানুষের বর্ণনা। এ ছাড়া আরও নানান বিষয় নানানভাবে কটাক্ষ ব্যঙ্গ মিশ্রিত হয়ে চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হয়েছে চলিত ভাষায় রচিত এই প্রথম বাংলা গ্রন্থে।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال