বাংলা কথাসাহিত্যে তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের অবদান আলােচনা করাে।

উত্তরঃ 
তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের অবদান: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের সমকালে আবির্ভূত হয়েও তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। এই জনপ্রিয়তার উৎস ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর ‘স্বর্ণলতা’ উপন্যাস। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে ‘ক্যালকাটা রিভিউ’ পত্রিকায় এই উপন্যাসের সমালােচনায় লেখা হয় 
“This is the only true novel we have read in Bengali" 
তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ‘স্বর্ণলতা' উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্রের অনুসরণে ইতিহাস ও রােমান্সের জগতে বিচরণ করেননি। তিনি অতি সাধারণ নরনারীর জীবনের বাস্তব চিত্র অঙ্কন করেছেন। পুরােপুরি বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস রচনার চেষ্টা সেই প্রথম। বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের সঙ্গে তারকনাথের উপন্যাসের পার্থক্য দেখাতে গিয়ে সুকুমার সেন বলেছেন, “বঙ্কিমের উপন্যাসে যে বাঙালী-জীবনের ছবি আছে তাহা কল্পনা-চিত্র,তারকনাথের স্বর্ণলতায় যে ছবি আঁকা হইয়াছে তাহা দৃষ্টি-চিত্র।” ‘দৃষ্টি-চিত্র’ বলতে সুকুমার সেন বাস্তবতার কথাই বলতে চেয়েছেন।

‘স্বর্ণলতা’ উপন্যাসে (১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দ) উনিশ শতকের গ্রামবাংলার পটভূমিতে একান্নবর্তী পরিবারের গার্হস্থ্য জীবনের পরিচয় তুলে ধরেছেন তারকনাথ। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে দুই ভাইয়ের সংসারে বিপর্যয় নেমে আসে, কীভাবে বড়াে বউ প্রমদার কুটিলতায় ছােটো বউ সরলার জীবন এগিয়ে যায় করুণ পরিণতির দিকে। সামাজিকপারিবারিক এই কাহিনি বর্ণনায় তারকনাথ যেভাবে বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন সেকালের বিচারে তা সত্যিই অভিনব। এই উপন্যাসের নাট্যরূপের নাম দেওয়া হয় সরলা'। নাটক হিসেবেও সরলা’ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। স্বর্ণলতা’ ছাড়া তারকনাথ আরও কয়েকটি উপন্যাস ও গল্প গ্রন্থ লিখেছেন। সেগুলি হল—ললিত সৌদামিনী’ ১৮৮২), হরিষে বিষাদ’ (১৮৮৭), ‘তিনটি গল্প’ এবং ‘অদৃষ্ট। এই রচনাগুলিতে ‘স্বর্ণলতা’ উপন্যাসের ধারাকেই তিনি মােটামুটিভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال