বাংলা কথাসাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান সম্পর্কে সংক্ষেপে আলােচনা করাে।

উত্তরঃ 
বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, পত্রিকা সম্পাদক এবং উনবিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট চিন্তানায়ক।

বঙ্কিমচন্দ্রের আগে কারও কারও রচনায় উপন্যাসের লক্ষণ ফুটে উঠলেও প্রকৃতপক্ষে বাংলা উপন্যাসের যথার্থ রূপটি গড়ে ওঠে বঙ্কিমচন্দ্রের হাতে। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বাংলা উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ বাংলা উপন্যাসের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। কারণ, দুর্গেশনন্দিনী’তেই প্রথম বাংলা উপন্যাসের পূর্ণাঙ্গ রূপের পরিচয় পাওয়া যায়।

বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যথা, 
(১) ইতিহাস ও রােমান্স-আশ্রয়ী উপন্যাস, 
(২) সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যামূলক উপন্যাস এবং 
(৩) তত্ত্বমূলক ও দেশাত্মবােধক উপন্যাস। 
দুর্গেশনন্দিনী’, ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘মৃণালিনী’, ‘যুগলাঙ্গুরীয়’, ‘ চন্দ্রশেখর’, ‘রাজসিংহ’ ও ‘সীতারাম’ তার ইতিহাস ও রােমান্স-আশ্রয়ী উপন্যাসের পর্যায়ে পড়ে। রাজসিংহ’ হল বঙ্কিমচন্দ্রের একমাত্র বিশুদ্ধ ঐতিহাসিক উপন্যাস—যা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন; অন্যগুলিতে ইতিহাস থাকলেও ইতিহাসের পটভূমিতে প্রাধান্য পেয়েছে মানুষের কথা। বঙ্কিমচন্দ্রের সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যামূলক উপন্যাসগুলি হল ‘বিষবৃক্ষ’, ‘কৃয়কান্তের উইল’, ইন্দিরা', রজনী' এবং রাধারাণী'। সমাজ ও পরিবারের নানান সমস্যা, নরনারীর সম্পর্কের জটিলতা এইসব উপন্যাসে চমৎকারভাবে ধরা পড়েছে। বঙ্কিমচন্দ্রের তত্ত্বমূলক ও দেশাত্মবােধক উপন্যাসের পর্যায়ে পড়ে ‘আনন্দমঠ' এবং ‘দেবী চৌধুরাণী’, ‘আনন্দমঠ' উপন্যাসে ব্যবহৃত বন্দেমাতরম্‌’সংগীতটি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম প্রেরণা হয়ে উঠেছিল। বাংলা কথাসাহিত্যের প্রথম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র স্মরণীয় হয়ে আছেন।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال