উত্তরঃ
■ গীতিকবিতা ও কবি: কবিমনের আবেগ-অনুভূতি-কল্পনা ছন্দময়ভাবে প্রকাশিত হয় যেসব কাহিনিবিহীন কবিতায়, তাই-ই হল লিরিক বা গীতিকবিতা।
আধুনিক বাংলা কাব্যের প্রথম গীতিকবি হলেন ‘ভােরের পাখি’ বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪)। কবিরচিত উল্লেখযােগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল সংগীত শতক’ (১৮৬২), বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০), ‘নিসর্গ সন্দর্শন’ (১৮৭০), বন্ধুবিয়ােগ’ (১৮৭০), ‘প্রেমপ্রবাহিনী’ (১৮৭১), সারদামঙ্গল’, (১৮৭৯) এবং সাধের আসন’ (১৮৮৮-৮৯)। বিহারীলাল ‘নিসর্গসন্দর্শন’ কাব্যের কবিতাগুলিতে নিসর্গ প্রকৃতিতে ব্যক্তিসত্তা আরােপ করে সচেতন কবি হৃদয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে যে নবতম কাব্যশৈলীর উদ্ভাবন ঘটিয়েছেন, তা গীতিকবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্য সারদামঙ্গল’, যেখানে কবির সৌন্দর্যচেতনা, গীতিবৈশিষ্ট্য পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। বিহারীলালের ‘ নিসর্গসন্দর্শন’ কাব্যের চারটি পংক্তি নীচে দেওয়া হল—
“যতই তােমার ভাব ভাবি হে অন্তরে,
ততই বিস্ময় রসে হই নিমগন,
এমন প্রকাণ্ড কাণ্ড যাহার উপরে,
জানি কি কাণ্ড আছে ভিতরে গােপন।”
গীতিকবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রধান-অনুগামী দুজন গীতিকবি হলেন দেবেন্দ্রনাথ সেন (১৮৫৮-১৯২০) এবং অক্ষয়কুমার বড়াল (১৮৬০-১৯১৯)। দেবেন্দ্রনাথ সেনের উল্লেখযােগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল ফুলবালা’ (১৮৮০), উর্মিলাকাব্য’ (১৮৮১), ‘নিঝরিণী’ (১৮৮১), “অশােকগুচ্ছ’ (১৯০০), ‘গােলাপগুচ্ছ’, ‘পারিজাতগুচ্ছ', ‘শেফালীগুচ্ছ’, ‘অপূর্ব নৈবেদ্য’, ‘অপূর্ব বীরাঙ্গনা’ (সবগুলিরই প্রকাশকাল ১৯১২)। অক্ষয়কুমার বড়ালের উল্লেখযােগ্য কাব্যগুলি হল ‘প্রদীপ’ (১৮৮৪), কণকাঞ্জলি’ (১৮৮৫), শঙ্খ’ (১৯১০) এবং ‘এষা’ (১৯১২)।
Tags
Bengali
