উঃ কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্র-সমকালীন বাংলা কবিতায় এনেছিলেন বিদ্রোহের বার্তা। সমকালীন রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এখানে মূর্ত হয়েছে। রােমান্টিকতার বিমুগ্ধ জগতে পদচারণা নয়, উল্লসিত ভােগবাদের আরক্ত সংরাগ নয় জীবনের ঊষর মরুক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে, ইংরেজদের অত্যাচার, অবিচার, শােষণের বিরুদ্ধে উদগীত কবিকণ্ঠ আশ্রয় গ্রহণ করল বিপ্লবী জীবনাদর্শে । এই মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা গেল ‘ভাঙার গান’ কবিতায়। কবি ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থার সমূলে বিনাশ ঘটাতে কামনা করেছেন নতুন করে দেবাদিদেব মহাদেবের আগমনের। ইংরেজরা যেভাবে ভারতবর্ষে শাসনজাল বিস্তার করেছে – অচিরেই তার বিনাশসাধন প্রয়ােজন। তাই তিনি দৃপ্তকণ্ঠে তরুণদের আহ্বান জানান — ইংরেজদের নির্মিত কারাগারের লৌহকপাট’-কে ভেঙে চুরমার করে দিতে হবে; যাতে অকারণে, অন্যায়ভাবে বিপ্লবীদের তারা আটক করতে না পারে। তাই মহাদেবরূপী নবীন বিপ্লবীদের ‘প্রলয় বিষাণ’ বাজিয়ে ধ্বংসের পতাকাকে কবি উড়িয়ে দিতে বলেছেন। বসে বসে সময় নষ্ট না করে পদাঘাতে ইংরেজদের তৈরি লােহার কারাগারের ভিত নাড়িয়ে দিয়ে, তালা ভেঙে আগুনে পুড়িয়ে দিতে চেয়েছেন তিনি। এইভাবেই কবি ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘােষণা করেছেন।
Tags
Bengali
