উত্তর: ‘জানা’ শব্দটির দ্বিতীয় অর্থ হল কর্মদক্ষতা বা কর্মকৌশল । কর্মকুশলতা অর্থে জ্ঞান বা সাধন জ্ঞান বা সামর্থ্য জ্ঞান বলতে কর্মদক্ষতা বা কর্মনৈপুণ্যকে বোঝানো হয়। কোনো কাজ বা পদ্ধতি সম্পাদন করার ক্ষমতাকে বলা হয় কর্মকুশলতা অর্থে জ্ঞান। যেমন— শ্যাম সাঁতার জানে, অরুণবাবু অঙ্ক জানেন ইত্যাদি।
◆ কর্মকুশলতার জ্ঞান প্রবণতামূলক : কর্মকুশলতা অর্থে জ্ঞান বলতে বোঝায় প্রবণতামূলক আচরণ। নির্দিষ্ট জায়গায় কোনো ব্যক্তি কাজ করে দেখিয়ে দেন যে, তার সেই কাজের প্রবণতা আছে। যেমন— একজন গায়কের প্রবণতা ‘গান গাওয়া’ তার আচরণের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ ঘটে। দার্শনিক রাইল প্রবণতা অর্থে ‘জ্ঞান’ শব্দটিকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে জ্ঞাতার বিশেষ কাজ করার ক্ষমতাকে বুঝিয়েছেন। এক্ষেত্রে দক্ষতাও একটি বিষয়। কোনো মোটর ড্রাইভারকে যদি গাড়িতে বসিয়ে দেওয়া হয়, সেই ব্যক্তি গাড়ি চালিয়েও দেখিয়ে দিতে পারে যে, সে গাড়ি চালাতে পারে। কোনো ব্যক্তির কোনো কর্মসম্পাদন করার জ্ঞান আছে প্রমাণিত হবে, যদি ওই ব্যক্তি ওই কাজটি করে দেখাতে পারেন।
◆ কর্মকুশলতার জ্ঞানে অনুশীলনের ভূমিকা : কোনো কিছু সম্পর্কে সামর্থ্য জ্ঞান বা কর্মকুশলতা জ্ঞান থাকলেও ওই বিষয় সম্পর্কে বেশি তথ্য আমরা নাও জানতে পারি। যেমন— কোনো ব্যক্তির গান গাওয়ার দক্ষতা বা সামর্থ্য থাকলেও গান সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সে নাও জানতে পারে, অথবা গান সম্পর্কে তার তাত্ত্বিক জ্ঞান খুবই সীমিত হতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তি গান সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানলেও এ কথা বলা যায় না যে, সে গান গাইতে সমর্থ। এই জ্ঞানে অনুশীলনমূলক শিখনের (Learning by practice) বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তবে এ কথাও ঠিক যে কোনো-না-কোনো তথ্য সাধনজ্ঞান বা কর্মকুশলতার ক্ষেত্রে থাকেই। যেমন— যে রান্না করতে জানে, তার হাঁড়ি, কড়াই, মশলাপাতি, আগুনের ব্যবহার ইত্যাদি তথ্য সম্পর্কে জানা থাকে, তাহলেই সে রান্না করতে সমর্থ হয়। আবার যে মিস্ত্রি বাড়ি তৈরি করেন, তার বাড়ি তৈরির কৌশল জানা থাকে।
● বৈশিষ্ট্য :
1] কর্মকুশলতা জ্ঞানের ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতার প্রয়োজন হয়।
2] এইপ্রকার জ্ঞান কাজ করার সামর্থ্যকে নির্দেশ করে।
3] এইরূপ জ্ঞানের জন্য অনুশীলন বা অভ্যাসের প্রয়োজন হয়।
4] এইপ্রকার জ্ঞান দক্ষতামূলক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্যমূলকও হয়।
5] কর্মকৌশল অর্থে জ্ঞানকে ঝোঁক বা প্রবণতামূলকও বলা হয়।
Tags
Philosophy
