উত্তর: ঋক্, সাম, যজুঃ ও অথর্ব—এই চারটি বেদ এবং ব্রাহ্মণ, আরণ্যক, উপনিষদ বা বেদান্ত ও বেদাঙ্গ নিয়ে বৈদিক সাহিত্য গড়ে উঠেছে। আর্যদের সম্পর্কে কিছু জানার জন্য এই বৈদিক সাহিত্য হল অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
হিন্দুদের বিশ্বাস বেদ মানুষের রচনা নয়—স্বয়ং ঈশ্বর প্রেরিত বাণী। এই কারণে বেদকে ‘নিত্য’ ও ‘অপৌরুষেয়’ বলা হয়। প্রাচীন ঋষিরা ঈশ্বরের এই বাণী শ্রবণ করেছিলেন বলে বেদের অপর নাম ‘শ্ৰুতি’। প্রাকৃতিক বর্ণনা ও প্রকৃতির দেবদেবীর স্তুতিগানই ঋগ্বেদ-এর মূল বিষয়বস্তু। সামবেদ -এর স্তোত্রগুলি যজ্ঞের সময় গীত হয়। যজুর্বেদ-এ যাগযজ্ঞের মন্ত্রাদি ও অথর্ববেদ-এ সৃষ্টি রহস্য, চিকিৎসাবিদ্যা ও নানা বশীকরণ মন্ত্রাদি আলোচিত হয়েছে। প্রত্যেক বেদ আবার সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ এই চারটি ভাগে বিভক্ত। উপনিষদ বেদের শেষভাগ তাই তা বেদান্ত নামে পরিচিত। কালক্রমে বৈদিক সাহিত্য বিশাল ও জটিলরূপ ধারণের ফলে তার মূল বিষয়গুলি সংক্ষিপ্তাকারে বোঝার জন্য রচিত হয় সূত্র সাহিত্য। এর দুটি ভাগ বেদাঙ্গ ও ষড়দর্শন। বেদ পাঠের জন্য যে ছ-টি বিদ্যা আবশ্যক তাকে বেদাঙ্গ বলে। উপনিষদের গভীর তত্ত্বগুলি আলোচনা ও ব্যাখ্যা থেকেই ষড়দর্শনের উৎপত্তি।
Tags
History
