প্রাচীন বাংলার রাঢ়-সুষ্ম এবং গৌড় অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিচয় দাও।

উত্তর: ভারতের একটি প্রাচীন জনপদ হল ‘বঙ্গ’ বা ‘বঙ্গদেশ’। বিংশ শতকের পূর্বে বঙ্গদেশ বলতে যা বোঝাত প্রাচীনকালে তা বোঝাত না। বঙ্গদেশের বিভিন্ন এলাকা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত ছিল।

রাঢ়-সুগ্ম : বর্তমানে যে অঞ্চল রাঢ় অঞ্চল বলে সুপরিচিত সেটি ছিল প্রাচীনকালের রাঢ়দেশ। রাঢ়দেশ দু-ভাগে বিভক্ত ছিল— 1) উত্তর রাঢ় ও 2) দক্ষিণ রাঢ়।

উত্তর রাঢ় ‘বজ্জভূমি’ ও দক্ষিণ রাঢ় ‘সুভ ভূমি’ বা ‘সুষ্মভূমি’ নামে পরিচিত ছিল। অজয় নদ ছিল উত্তর রাঢ় ও দক্ষিণ রাঢ়ের মধ্যবর্তী সীমারেখা । অজয় নদের উত্তরে ছিল উত্তর রাঢ় ও দক্ষিণে দক্ষিণ রাঢ়। উত্তর রাঢ় ছিল বর্তমান মুরশিদাবাদ, বীরভূম, সাঁওতাল পরগনা, বর্ধমান প্রভৃতি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। দক্ষিণ রাঢ় ছিল হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বর্ধমানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। মহাভারত ও কালিদাসের কাব্যে আছে যে, ভাগীরথী ও কাঁসাই (কংসাবতী) নদীর মধ্যবর্তী এলাকা থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত দক্ষিণ রাঢ় বিস্তৃত ছিল।

গৌড় : প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে গৌড় ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। আবার গৌড় বলতে একটি জনগোষ্ঠীকেও বোঝাত। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে বরাহমিহিরের রচনা থেকে জানা যায় মুরশিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমান জেলার পশ্চিম অংশ নিয়ে সেকালের গৌড় রাজ্য গড়ে উঠেছিল।
খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে গৌড়ের রাজা ছিলেন শশাঙ্ক। তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। খ্রিস্টীয় অষ্টম-নবম শতকে সমগ্র পাল সাম্রাজ্যকে গৌড় বলা হত।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال