গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের রাজ্যজয়ের পরিচয় দাও।

উত্তর: শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম সার্বভৌম রাজা। প্রথম জীবনে তিনি মহাসেনগুপ্তের সামন্ত ছিলেন। গুপ্ত বংশের দুর্বলতার সুযোগে ৬০৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

◆ উপাদান : শশাঙ্ক সম্পর্কে জানা যায় কবি বাণভট্ট রচিত হর্ষচরিত, চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ (সুয়ান জাং) রচিত সি-ইউ-কি এবং বৌদ্ধ গ্রন্থ আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্প গ্রন্থ থেকে।

[1] শশাঙ্কের রাজ্যবিস্তার : গৌড় রাজ্যের সিংহাসনে আরোহণের পর শশাঙ্ক সমগ্র গৌড়দেশ, মগধ, বুদ্ধগয়া অঞ্চল এবং ওড়িশার একাংশ জয় করেন। তাঁর রাজত্ব উত্তর-পশ্চিম বারাণসী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। শশাঙ্কের রাজধানী ছিল বর্তমান মুরশিদাবাদ জেলার কর্ণসুবর্ণ। [2] স্বাধীন সার্বভৌম রাজ্য প্রতিষ্ঠা : শশাঙ্ক প্রথম বাংলার গৌড়ে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি উত্তর ভারতেও আধিপত্য বিস্তারে সচেষ্ট হয়েছিলেন।
[3] মৈত্রীজোট গঠন ও কনৌজ আক্রমণ : গৌড় রাজ্যের প্রতিবেশী রাজ্য কনৌজের রাজা গ্রহবর্মার সঙ্গে থানেশ্বরের রাজকন্যা রাজ্যশ্রীর বিবাহ হলে কনৌজ ও থানেশ্বর জোটবদ্ধ হয়। শশাঙ্কও মালবরাজ দেবগুপ্তের সঙ্গে মিলিত হন, তাদের আক্রমণে কনৌজরাজ নিহত হন ও তাঁর পত্নী রাজ্যশ্রী বন্দিনি হন। থানেশ্বররাজ রাজ্যবর্ধনও শশাঙ্কের হাতে নিহত হন।
[4] শশাঙ্ক-হর্ষবর্ধন দ্বন্দ্ব : হর্ষবর্ধন থানেশ্বরের সিংহাসনে আরোহণ করে শশাঙ্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন। হর্ষবর্ধনের সঙ্গে শশাঙ্কের যুদ্ধের ফল কী হয়েছিল সে-সম্পর্কে সঠিক জানা যায় না। তবে পণ্ডিতগণ মনে করেন যে, শশাঙ্ক যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন পর্যন্ত হর্ষবর্ধন গৌড় দখল করতে পারেননি।
◆ গৌড়তন্ত্র : গৌড়ের সিংহাসনে বসার পর শশাঙ্ক একটি সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। এটি ‘গৌড়তন্ত্র’ নামে পরিচিত ছিল। পরিশেষে বলা যায়, বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছেন। তিনি যে রাজ্যজয়ের নীতি অনুসরণ করেছিলেন পরবর্তীকালে তা অনুসরণ করে পাল বংশের রাজারা এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال