উত্তর: প্রাচীন ভারতের ত্রিশক্তি সংগ্রামের তিনটি শক্তি হল—
1) বাংলার পাল,
2) পশ্চিম ভারতের গুর্জর-প্রতিহার এবং
3) দক্ষিণ ভারতের রাষ্ট্রকূট।
◆ ত্রিশক্তি দ্বন্দ্বের কারণ : কনৌজ দখলের জন্য পাল, গুর্জর-প্রতিহার এবং রাষ্ট্রকূট বংশের রাজাদের মধ্যে ত্রিশক্তি সংগ্রাম হয়েছিল। এই সংগ্রামের কারণগুলি হল—
প্রথমত, সম্রাট হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে তাঁর রাজধানী কনৌজ ‘মহোদয়শ্রী’ বা শ্রেষ্ঠনগরীর মর্যাদা লাভ করেছিল। হর্ষবর্ধনের পরবর্তীকালে কনৌজের রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। কনৌজ ‘সাম্রাজ্যবাদের প্রতীক’-এ পরিণত হয়। এই সময় বোঝা গিয়েছিল—যে কনৌজ দখল করবে সেই গাঙ্গেয় উপত্যকা দখলে রাখতে পারবে।
দ্বিতীয়ত, গুপ্ত সাম্রাজ্যের আগে প্রাচীন ভারতে মগধের যে মর্যাদা ছিল হর্ষবর্ধনের পতনের পর কনৌজ সেই গুরুত্ব লাভ করে। হর্ষ-পরবর্তী যুগে উত্তর ভারতের বা দক্ষিণ ভারতের সম্রাটদের কাছে কনৌজ দখল করা ছিল মর্যাদার প্রতীক।
তৃতীয়ত, কনৌজ অঞ্চলের নদীভিত্তিক বাণিজ্য এবং খনিজ দ্রব্য ভারতীয় রাজাদের কাছে লোভনীয় ছিল। তা ছাড়া কনৌজ ছিল গাঙ্গেয় উপত্যকার কৃষিসম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চল। কনৌজের ভালো অর্থনৈতিক অবস্থা ভারতীয় রাজাদের প্রলুব্ধ করে।
◆ ত্রিশক্তি সংগ্রামের ফল : প্রায় দুশো বছর ধরে চলা ত্রিশক্তি সংগ্রামের ফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
প্রথমত, ত্রিশক্তি সংগ্রামে পাল, প্রতিহার এবং রাষ্ট্রকূটদের মধ্যে কেউই স্থায়ীভাবে কনৌজের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘকাল যুদ্ধ করার ফলে প্রতিটি রাজ্যের সামন্তরাজারা স্বাধীনতাকামী হয়ে ওঠে।
পরিশেষে বলা যায়, সামরিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক দুর্বলতা, সামন্তরাজাদের বিদ্রোহ এবং সর্বোপরি ভারতের রাজনৈতিক অনৈক্য ভারতে বৈদেশিক আক্রমণের পথ সুপ্রশস্ত করে।
Tags
History
