
◆ কৃষি জমির সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী বৈদিক যুগে বাণিজ্যের বিশেষ শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। অথর্ববেদে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে কৃষি পণ্যের সঙ্গে পােশাক ও ছাগ চর্মের কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন নগর ও রাজ্যের মধ্যে রাস্তাঘাট নির্মাণের ফলে এই সময়ে যােগাযােগ ব্যবস্থার দারুণ উন্নতি ঘটে এবং বহু বাণিজ্য পথও আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী বৈদিক যুগের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসী কিরাতরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করত। এই যুগে ভারতের বিশেষ কিছু বাণিজ্যপথ ধরে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য চলত। উত্তরপূর্ব ভারতে এই বাণিজ্যপথ গয়া রাজগীর-বৈশালী বারাণসী থেকে শুরু করে নেপালের তরাই অঞ্চল পর্যন্ত এবং পূর্ব দিকে নেপাল থেকে পশ্চিমে পাঞ্জাব পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। উত্তর-পশ্চিম ভারতের বাণিজ্যপথ শ্রাবস্তি-দিল্লীমথুরা থেকে সুদূর তক্ষশিলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই যুগে দক্ষিণ ভারতের বাণিজ্যপথ ভিসা ও মহীশূর অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ঔরঙ্গবাদের পৈথান বা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। এছাড়া এই যুগের বৈদিক সাহিত্য ব্রাত্মাণ ও সংহিতায় সমুদ্র বাণিজ্যের কথা বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে। অনুমান করা হয়, পরবর্তী বৈদিক যুগে প্রধানত মেসসাপটেমিয়ার সঙ্গে সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্য চালানাে হত।