[ক] অর্থনৈতিক বিবর্তন :
১] কৃষির বিবর্তন : খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ট শতকে পূর্ববর্তী যুগের তুলনায়
১) কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে
২) বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির উৎপাদন বেড়ে যায় এবং
৩) ঋতু অনুযায়ী শস্য রােপণের জ্ঞান সুস্পষ্ট হয়।
৪) এই যুগে লােহার লাঙলের ব্যবহার শুরু হলে কৃষি কাজ আরও সহজ হয় এবং সেই সঙ্গে ৫ বসতি ও কৃষি সম্প্রসারণ শুরু হয়।
২] শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার : এই যুগে
১) টিন, দস্তা, রুপা ও. লােহার ব্যবহার শুরু হয়। এই যুগে
২) ব্যাবসাবাণিজ্যের উন্নতি হওয়া ছাড়াও
৩) যােগাযােগ ব্যবস্থার দারুন উন্নতি ঘটে এবং
৪) বহু বাণিজ্য পথও আবিষ্কৃত হয়। এছাড়া
৫) এই যুগের বৈদিক সাহিত্য ব্রাত্মণ ও সংহিতায় বাণিজ্য উপলক্ষ্যে সমুদ্রযাত্রার উল্লেখ আছে।
৬) শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এই যুগে নিগম’বা বণিক-সংঘও গড়ে উঠেছিল।
৩] নগরের উত্থান : বৈদিক যুগের শেষের দিকে (১,০০০–৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) মধ্য গাঙ্গেয় অঞ্চলে নগরের পুনরাবির্ভাব ঘটে, প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের এই ঘটনা দ্বিতীয় নগরায়ণ’নামে পরিচিত। গৌতম বুদ্ধের সমকালীন ভারতবর্ষে প্রায় ৬০টি নগরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
৪] নগর বাণিজ্য ও বণিক শ্রেণি : এই যুগের নগরগুলি শিল্প ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হওয়ায় তৎকালীন বিভিন্ন নগরের জনসংখ্যার একটা বড়াে অংশই ছিল বণিক ও কারিগর।
[খ] সামাজিক বিবর্তন : ঋক-বৈদিক যুগের মতাে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্টশতকেও সমাজের ভিত্তি ছিল পরিবার। এই যুগে সমাজব্যবস্থা কঠোর ও অনমীয় হয়ে ওঠে, যেমন :
১| সামাজিক অনুশাসন ও কঠোরতা : এই যুগে সামাজিক অনুশাসন ও বর্ণভেদপ্রথা কঠোর হয় এবং তা জন্মগত হয়ে ওঠে। ব্রাত্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র—এই চারটি শ্রেণির মধ্যে সমাজে ব্রাত্মণ ও ক্ষত্রিয়ের ক্ষমতা, মর্যাদা ও প্রভাব যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায় এবং বৈশ্য ও শূদ্রের মর্যাদা ক্রমশ কমতে থাকে। শুদ্রদের কোনও অধিকার ছিল না।
২] নারীর মর্যাদা হ্রাস : আগের যুগের তুলনায় এই যুগে নারীর সামাজিক মর্যাদা কিছুটা ক্ষুন্ন হয়। সম্পত্তির অধিকার থেকে নারীদের বঞ্চিত করা হয়। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কার্যে যােগদানের অধিকারও তারা হারান এবং বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, বিধবা বিবাহ, পণপ্রথা, এক নারীর একাধিক স্বামীর অস্তিত্ব এই সবের প্রচলন শুরু হয়। অবশ্য নারীর শিক্ষার সুযােগ এই যুগেও ছিল। এই যুগের বিদুষী নারীদের মধ্যে মৈত্রেয়ীও গার্গীরনাম উল্লেযােগ্য।
Tags
History

