◆ খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ব্যাবসাবাণিজ্যের প্রসার :
(১) খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে আর্যরা উর্বর মধ্য-গাঙ্গোয় উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়লে আর্যাবর্তে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সূচনা হয়। উর্বর কৃষিক্ষেত্র ও লােহার তৈরি কৃষিযন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে এই যুগে কৃষির উৎপাদন অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পায়। উদ্বৃত্ত কৃষি উৎপাদনের ফলে ব্যাবসাবাণিজ্য বৃদ্ধি পায় ও কারিগরি শিল্পের বিকাশ ঘটে। এছাড়া এই যুগে
(২) টিন, দস্তা, রুপা ও লােহার ব্যবহার শুরু হয়। এই যুগে
(৩) যােগাযােগ ব্যবস্থার দারুন উন্নতি ঘটে এবং ৪) বহু বাণিজ্য পথও আবিষ্কৃত হয়।
★ এই সমস্ত কারণে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ব্যাবসাবাণিজ্যের প্রসার লাভ করে। শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এই যুগে নিগম’বা বণিক-সংঘও গড়ে উঠেছিল।
● নগরের উত্থান : বৈদিক যুগের শেষের দিকে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে :
১) লােহার ব্যবহারের প্রচলনের ফলে আর্থসামাজিক জীবনে পরিবর্তন,
২) কৃষির উন্নতি ও সম্প্রসারণ,
৩) উদ্বৃত্ত উৎপাদনের ফলে ব্যাবসাবাণিজ্যের শ্রীবৃদ্ধি,
৪) কারিগরী শিল্পের বিকাশ,
৫) ভােগ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণ নগরায়ণের অনুকূল পরিবেশ রচনা করে।
এ যুগের নগরগুলি শিল্প ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হওয়ায় বিভিন্ন নগরের জনসংখ্যার একটা বড়াে অংশই ছিল কারিগর ও বণিক। এইভাবে হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলি ধ্বংসের প্রায় ১০০০ বছর পরে বৈদিকযুগের শেষের দিকে (১,০০০–৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) মধ্য-গাঙ্গেয় অঞলে নগরের পুনরাবির্ভাব ঘটে, প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের এই ঘটনা ‘দ্বিতীয় নগরায়ণ’ নামে পরিচিত। দ্বিতীয় পর্যায়ের এইসব নগরগুলাের মধ্যে হস্তিনাপুর কৌশল, কৌশাম্বী, অহিচ্ছত্র, বিদর্ভ প্রভৃতি ছিল উল্লেখযােগ্য। গৌতমবুদ্ধের সমকালীন ভারতে প্রায় ৬০টি নগরের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এইসব নগরগুলাের মধ্যে শ্রাবস্তী, জগৃহ, চম্পা, বৈশালী, বারাণসী, লুম্বিনী, সাঁচী, বিদিশা, উজ্জয়িনী, অবন্তী, মথুরা, ইন্দ্রপ্রস্থ, তক্ষশীলা প্রভৃতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ নগর।
Tags
History

