প্রাচীন ভারতে বাণিজ্য সংস্থার সম্প্রসারণ ঘটে কীভাবে?



◆ বৈদিক যুগের শেষের দিকে কৃষির সম্প্রসারণ, মুদ্রার প্রচলন এবং ভােগ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য নগর বাণিজ্যের বিস্তার হয়। এযুগের নগরগুলাে শিল্প ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হওয়ায় বিভিন্ন নগরের জনসংখ্যার একটা বড়াে অংশই ছিল কারিগর ও বণিক। বৈদিক পরবর্তী যুগের প্রত্যেক নগরে শিল্পকেন্দ্র (কারখানা), গুদাম (অন্তরাপণ), দোকান (আপণ) এবং বাজার (নিগম) ছিল। পরবর্তী বৈদিক যুগ থেকেই শিল্পের স্থানীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল। এযুগের নগরগুলির বিশেষ বিশেষ অঞলে বিশেষ বিশেষ শিল্পীরা ও কারিগররা তাদের নির্দিষ্ট শিল্পকর্ম চালাত এবং এই শিল্পের নামেই রাস্তা বা অঞ্চল বিশেষের নামকরণ করা হত। বিশেষ বিশেষ শ্রেণি বা অঞ্চলের বণিকরা এইসব শিল্পী ও কারিগরদের তৈরি শিল্পদ্রব্য ও ভােগপণ্যগুলিকে দেশ-বিদেশের বাজারে বিক্রি করত। পানিণির ‘অষ্টাধ্যয়ী অধ্যায়ে–গাে বণিক, অশ্ববণিক’গন্ধার বণিক, মদ্র বণিক প্রভৃতির উল্লেখ পাওয়া যায়।

বাণিজ্যের শ্রীবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী বৈদিক যুগে ব্যবসায়ী সংঘ বা গিল্ড গড়ে ওঠে। এযুগে একেকটি বিশেষ ধরনের শিল্প কিংবা বাণিজ্যে নিযুক্ত শিল্পী কারিগর ও বণিকরা তাদের নিজেদের ব্যবসায়ী সংগঠন গড়ে তােলে। বাণিজ্য সংস্থার সদস্যরা নিজেদের কর্তব্য ও অধিকার সম্পর্কে নিয়মকানুন প্রবর্তন করে। নিজেদের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল এই সমস্ত সংগঠন বা গিল্ডের প্রধান কাজ। বাণিজ্য-সংস্থাগুলি আপদে-বিপদে তাদের সদস্যদের পাশে দাঁড়াত, মূলধন যােগান দিত এবং বাণিজ্যে সাহায্য করত।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال