ভূমিকা: কনৌজ দখলের লক্ষ্যে বাংলার পাল, রাজপুতানা ও মালবের গুর্জর-প্রতিহার এবং দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট—এই তিন শক্তিই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ত্রিশক্তি দ্বন্দ্বের ফলাফল / গুরুত্ব ----
[1] শক্তিক্ষয়: তিনটি প্রায় সমক্ষমতাসম্পন্ন রাজশক্তি একটানা লড়াই চালানােয় তাদের সকলেরই কমবেশি আর্থিক ও সামরিক শক্তি ক্ষয় হয়।
[2] রাষ্ট্রীয় ঐক্যে ভাঙন : এই তিন রাজশক্তির ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বেশকিছু ছােটো ছােটো স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে। ফলে হর্ষবর্ধনের আমলে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় ঐক্যে পুনরায় ভাঙন ধরে।
[3] তুর্কি আক্রমণ: তিন প্রধান রাজশক্তির ক্ষমতাহ্রাস ও রাষ্ট্রীয় ঐক্যে ভাঙন তুর্কি আক্রমণকারীদের ভারতজয়কে অনেক সহজ করে দেয়।
[4] আঞ্চলিকতাবাদের উত্থান: ত্রিশক্তি দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতি হিসেবে ভারতীয় রাজনীতিতে ক্ষুদ্র আঞ্চলিকতাবাদের উত্থান ঘটে।
[5] কৃষক বিদ্রোহ: সামরিক খরচ জোগানাের উদ্দেশ্যে এই তিন রাজশক্তিই রাজস্ব বৃদ্ধি করলে কৃষকপ্রজারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমিতে দিব্যকের নেতৃত্বে পালরাজা দ্বিতীয় মহীপালের আমলে কৈবর্ত বিদ্রোহ ঘটে।
Tags
History
