ভূমিকা: নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি যখন ক্রমহ্রাসমান তখন উচ্চশিক্ষার স্থান হিসেবে বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়টির উত্থান ঘটে। এটি বৌদ্ধদের কাছে বিক্রমশীল বা বিক্রমশীলা মহাবিহার নামে পরিচিত। নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়কালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি চরমে পৌঁছােয়।
প্রতিষ্ঠা: পাল রাজা ধর্মপাল আনুমানিক নবম শতকে বিহারের ভাগলপুরে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর কেন্দ্রস্থলে এক মহাবােধির মূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল।
প্রবেশিকা পরীক্ষা: এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতি হতে গেলে কঠিন। প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হত।
পরিকাঠামাে: ১০০ জনেরও বেশি আচার্যের তত্ত্বাবধানে এই বৌদ্ধবিহারে ধর্মচর্চা চলত ও ছাত্রদের শিক্ষা দেওয়া হত| দেশবিদেশের প্রায় ৩০০০ ছাত্র এখানে শিক্ষা লাভ করত। শিক্ষাদান ছিল অবৈতনিক। একটি বড়াে গ্রন্থাগারও বিহারটিতে ছিল।
পাঠক্রম ও মূল্যায়ন: বজ্রযান বৌদ্ধ মতচর্চার এই কেন্দ্রে ব্যাকরণ, দর্শন, তর্কশাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র, গণিত, চিকিৎসাবিদ্যা, তন্ত্রশাস্ত্র ইত্যাদি শেখানাে হত| ছাত্রদের মূল্যায়নভিত্তিক উপাধি প্রদানের ব্যবস্থাও ছিল |
ধ্বংস: তুর্কি আক্রমণকারী বখতিয়ার খলজি ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয়টি ধ্বংস করেন।
Tags
History
