সূচনা: ' বঙ্গ' নামটির ধারণা বেশ অস্পষ্ট। এই নামের উদ্ভব ও ব্যাখ্যা নিয়েও মতবিরােধ আছে।
বঙ্গ নামের উদ্ভব: ‘বঙ্গ’ নামটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঋকবেদের ঐতরেয় আরণ্যক নামক গ্রন্থে|তবে এখানে উল্লেখিত প্রাচীন বাংলায় ‘বঙ্গ’ বলতে যে অঞ্চলটিকে বােঝানাে হয়েছে ভৌগােলিকভাবে তা ছিল বাংলার একটি জনপদ মাত্র।
মহাভারতে বঙ্গ, পুণ্ড্র, সুয় ও তাম্রলিপ্ত প্রভৃতি আলাদা আলাদা রাজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র এবং কালিদাসের রঘুবংশম কাব্যেও বঙ্গ ও সুষ্ম নাম দুটির উল্লেখ পাওয়া যায়। মিনহাজ-উস-সিরাজ খ্রিস্টীয় ত্রয়ােদশ শতকে বঙ্গ রাজ্যর উল্লেখ করেছেন।
সুবা বাংলা: মােগল আমলের ঐতিহাসিক আবুল ফজল তাঁর আইন-ই-আকবরি' নামক গ্রন্থে বঙ্গকেই ‘সুবা বাংলা' রূপে অভিহিত করেছেন।
বেঙ্গলা, বাংলাদেশ: ষােড়শ, সপ্তদশ, অষ্টাদশ শতকে ইউরােপীয় ভ্রমণকারী বণিকরা এইদেশের নাম দিয়েছিলেন ‘ বেঙ্গলা’ | প্রাকস্বাধীনতা যুগে এই ভূখণ্ডই বাংলা বা বাংলাদেশ বা বেঙ্গল নামেই পরিচিত ছিল।
পশ্চিমবঙ্গ: ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশভাগের সময় বাংলার পশ্চিমভাগের নাম হয় পশ্চিমবঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ স্বাধীন ভারতের অন্যতম অঙ্গরাজ্য।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র: ১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলা পাকিস্তান ভূখণ্ডের মধ্যে চলে যায়। পরে এর নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়। জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের।
সিদ্ধান্ত: ‘বঙ্গ' নামটির কারণ নিয়ে মতভেদ থাকলেও, মানুষের মুখে-মুখে ঘুরে এই নামটি জনপ্রিয় হতে দীর্ঘদিন লেগেছে।
Tags
History
