সূচনা: অতীশ দীপঙ্কর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রসারে উল্লেখযােগ্য অবদান রেখেছিলেন।
অতীশ দীপঙ্করের অবদান ---
[1] মহাযান বৌদ্ধধর্মের প্রচারে: অতীশ দীপঙ্কর প্রথমে ব্রয়দেশ এবং পরে সুবর্ণদ্বীপে যান। সেখানে বেশ কিছুদিন থাকার পর মহাযান বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য তিনি সিংহলে যান। একাদশ শতকে তিব্বতের রাজা জ্ঞানপ্রভের অনুরােধে তিনি তিব্বতে যান। তিনি ১৩ বছর ধরে সেখানে মহাযান ধর্মমতের প্রচার চালান।
[2] বৌদ্ধ গ্রন্থের রচনায়: তিব্বতে থাকাকালীন তিনি তিব্বতি ভাষায় মােট ২০০টি বৌদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেন। যথা—বজ্রযান সাধন’,‘বােধিপথ প্রদীপ’, ‘ পিণ্ডাৰ্থ প্রদীপ’, ‘প্রজ্ঞাপারমিতা’, ‘কুঞ্জুর', ‘মাধ্যমিকররত্ন প্রদীপ প্রভৃতি।
[3] বৌদ্ধ সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠায়: অতীশ দীপঙ্কর গেলুক নামে বৌদ্ধ সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযােগ্য ভূমিকা নেন।
[4] বৌদ্ধধর্মের সংস্কার: শান্তি, বৈরাগ্য ও সর্বজীবের প্রতি সহানুভূতির পথ ধরেই তিব্বতে বৌদ্ধধর্মের সংস্কার সাধিত হয়।
[5] ভারতীয় বর্ণমালার প্রবর্তনে: বৌদ্ধধর্মের প্রচার ছাড়াও অতীশ দীপঙ্কর খােটানে ব্যবহৃত ভারতীয় বর্ণমালা তিব্বতে প্রবর্তন করেন।
[6] ভারতীয় সংস্কৃতির প্রচার: সুপ্রাচীন ভারতের সনাতন সংস্কৃতিকে বহির্বিশ্বে প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন অতীশ।
Tags
History
