বৈদিক যুগে জাতিভেদ প্রথা কীভাবে গড়ে ওঠে? পরবর্তীকালে তার কী পরিণতি হয় ?


উত্তর
প্রথম অংশ : প্রথম দিকে আর্যদের মধ্যে বর্ণভেদ বা জাতিভেদ প্রথার বিশেষ প্রচলন ছিল না। কিন্তু অনার্যদের সঙ্গে অবিরাম যুদ্ধের ফলে আর্য ও অনার্যদের মধ্যে শ্রেণিভেদের উদ্ভব হয় এবং বর্ণভেদ প্রথার উন্মেষ হয়। ঋগবেদের দশম মণ্ডলে ‘পুরুষ সূত্রে’প্রথম বর্ণভেদের উল্লেখ পাওয়া যায়। এরপর পেশা বা কর্ম অনুসারে সমাজে ব্যবধান সৃষ্টি হয়। যারা বিদ্যাচর্চা ও যাগযজ্ঞ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, তাঁরা ব্রাত্মণ নামে পরিচিত হলেন। সামরিক ও প্রশাসনিক কার্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্ষত্রিয়’নামে পরিচিত হলেন। যাঁরা কৃষি, পশুপালন, ব্যাবসাবাণিজ্য পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন তাঁদের বলা হত ‘বৈশ্য। উপরােক্ত তিন শ্রেণির সেবায় নিযুক্ত ব্যক্তিরা ছিলেন সমাজের একেবারে নীচের স্তরে—এদের বলা হত শুদ্র। পরবর্তী বৈদিক যুগে জাতিভেদ প্রথা আরও কঠোর ও অনমনীয় হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় অংশ : পরবর্তী বৈদিক যুগে সামাজিক অনুশাসন কঠোর হয়। বর্ণভেদপ্রথা কঠোর হয় ও তা জন্মগত হয়। ব্রাত্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র—এই চারটি শ্রেণির বাইরে পেশা ও বৃত্তিভিত্তিক বহু নতুন বর্ণের সৃষ্টি হয়, যে জনগােষ্ঠী ছিল তারা ‘পঞ্চমগণ’নামে পরিচিত হয়। এদের কোনও সামাজিক অধিকার দেওয়া হয়নি। সমাজে ব্রাত্মণ ও ক্ষত্রিয়ের ক্ষমতা, মর্যাদা ও প্রভাব যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায় এবং বৈশ্য ও শূদ্রের মর্যাদা ক্রমশ কমতে থাকে। শূদ্রদের কোনও অধিকার ছিল না।

Lob (Admin)

This site was launched on March 1, 2019. Today it is appreciated by millions of students. This site has changed a lot in the last two years and I have tried to do better every time.

Please Do Not Enter Any Span Link in The Comment Box

Previous Post Next Post

نموذج الاتصال