বিজ্ঞানসাধনায় মহেন্দ্রলাল সরকার ও প্রমথনাথ বসুর অবদান ছিল অগ্রগণ্য এবং ইতিহাসে স্মরণীয়। তারা ভারতীয় সমাজে বিজ্ঞানচর্চার ভিত রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিচে তাদের অবদানের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো:
মহেন্দ্রলাল সরকার (1833–1904):
১. ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স (IACS):
মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন IACS-এর প্রতিষ্ঠাতা (1876)। এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম বিজ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান। এই সংস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানচেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল, এবং পরবর্তীতে জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়-এর মতো বিজ্ঞানীরা এখান থেকেই গবেষণার সূচনা করেন।
২. বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করা:
তিনি মনে করতেন, বিজ্ঞান শুধুমাত্র পাশ্চাত্য শিক্ষিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়া উচিত। তাই তিনি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানবিষয়ক বক্তৃতা ও প্রকাশনার ব্যবস্থা করেন।
৩. হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা:
মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকও, এবং এই শাস্ত্রের উন্নয়নে তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
প্রমথনাথ বসু (1855–1934):
১. ভারতের প্রথম ভারতীয় ভূতত্ত্ববিদ:
প্রমথনাথ বসু ছিলেন ভারতের প্রথম ভারতীয় ভূতত্ত্ববিদ। তিনি জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াতে কাজ করেন এবং পরবর্তীতে Presidency College-এ অধ্যাপক হন।
২. বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসার:
তিনি বিজ্ঞানকে ইংরেজি নয়, মাতৃভাষায় শেখানো উচিত বলে বিশ্বাস করতেন। তাঁর চেষ্টায় বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
৩. টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানিতে (TISCO) অবদান:
ভারতে আধুনিক লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের গোড়াপত্তনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনিই জামশেদপুর অঞ্চলে খনিজ সম্পদের সন্ধান দেন, যা পরবর্তীতে টাটা স্টিল কারখানা স্থাপনের পথে সহায়ক হয়।
উপসংহার:
মহেন্দ্রলাল সরকার ও প্রমথনাথ বসু দু’জনেই ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চার ভিত্তি নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তারা শুধু বিজ্ঞানচর্চা করেননি, বরং বিজ্ঞানকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। তাদের অবদানের ফলেই পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পেরেছেন।

