উ: জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭ খ্রি): বাঙালির আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার উল্লেখযােগ্য গবেষক ছিলেন বিজ্ঞানসাধক ও বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসু।
জগদীশচন্দ্র বসু তখন প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দ। ৩৫তম জন্মদিনে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন যে, বিজ্ঞানের গবেষণায় তিনি জীবন উৎসর্গ করবেন। ফলে জীবনের দীর্ঘ চল্লিশ বছর গবেষণা কাজে মগ্ন ছিলেন। তাঁর লেখা ‘অব্যক্ত গ্রন্থের এক প্রবন্ধে বলেন যে, দৃশ্য ও অদৃশ্য আলােকের প্রকৃতি অভিন্ন। অদৃশ্য আলােকও সােজাপথে চলে। তা প্রমাণ করার চেষ্টাই তিনি করেছিলেন। তাঁর বৈজ্ঞানিক নেশা ছিল ফোটোগ্রাফি ও শব্দগ্রহণ। তিনি বিনা তারে বার্তা প্রেরণের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তাঁর দ্বিতীয় উল্লেখযােগ্য গবেষণা হল ধাতু, উদ্ভিদ ও প্রাণীর পেশির ওপর নানা পরীক্ষা। তিনি দেখান যে, বৈদ্যুতিক, রাসায়নিক ও যান্ত্রিক উত্তেজনায় উপরােক্ত তিন ভিন্ন জাতীয় পদার্থ একইভাবে সাড়া দেয়। তিনিই সম্ভবত প্রথম মানুষের স্মৃতিশক্তির যান্ত্রিক নমুনা প্রস্তুত করেন। জড় ও প্রাণীর মধ্যগত বস্তু হল উদ্ভিদ। উদ্ভিদের ওপর প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উত্তেজনার ফলাফল কী হতে পারে তিনি তা পরীক্ষা করেন। বৈদ্যুতিক আঘাতে উদ্ভিদও সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে তিনি তা প্রমাণ করেন। উদ্ভিদের জলশােষণ ও সালােকসংশ্লেষ সম্বন্ধে গবেষণা করেন। 'বসু-বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা তাঁর স্মরণীয় কীর্তি।
Tags
Bengali

