ইকতার পরিচয়
রাজস্ব লাভ এবং সামরিক সাহায্য লাভের বিনিময়ে অথবা বীরত্বের পুরস্কার স্বরূপ সুলতানি শাসন ব্যবস্থায় সামরিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ওপর সুলতান নির্দিষ্ট অঞ্চলের রাজস্ব আদায় করার অধিকার দিতেন এই ব্যবস্থাকে ইক্তা ব্যবস্থা বলা হয়। ইকতা প্রাপককে বলা হত ইকতাদার বা মাতিবা ওয়ালি|
ইকতা ব্যবস্থা চালু করার কারণ ---
[1] রাজস্ব আদায়: সুলতানি সাম্রাজ্যের দূরবর্তী অঞ্চলগুলি থেকে রাজস্ব আদায় করার জন্যই মূলত ইকতাসৃষ্টি করা হয়েছিল।
[2] সামরিক বাহিনী পােষণ: ইকতাদারকে ইকতার আয়ে সামরিকবাহিনী পােষণ করতে বলা হয়। উদ্দেশ্য, প্রয়ােজনের সময় ইকতাদার সৈন্য দিয়ে সুলতানকে সাহায্য করবেন।
[3] বেতনের পরিবর্ত হিসেবে: সামরিক নেতাদের বা উচ্চপদস্থ কর্মচারীদেরও অনেক সময় বেতনের পরিবর্তে ইকতা দেওয়া হত।
[4] শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা: আঞ্চলিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার শর্তেও ইকতাদারকে ইকতা প্রদান করা হত।
[5] অতীত ঐতিহ্য রক্ষা: একাদশ শতকে সেলজুক তুর্কি সাম্রাজ্যে ইকতা ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। তাই ভারতবর্ষের তুকি সুলতানরা তাদের প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসরণ করেই ইকতা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন বলে মনে করা হয়।
Tags
History
