উত্তরঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনার ক্ষেত্রে তার পরিধি ও ব্যাপকতা নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মহলে মতপার্থক্য রয়েছে। এই মতপার্থক্যকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই তিনটি ভাগ হল— (i) সাবেকি অভিমত, (ii) সাম্প্রতিক অভিমত ও (iii) মার্কসীয় অভিমত। এই তিনটি অভিমতের মধ্যে অন্যতম হল সাবেকি অভিমত।
■ সাবেকি অভিমত: ব্রুন্টসলি, গার্নার প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু হল রাষ্ট্র। গার্নার বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শুরু ও শেষ রাষ্ট্রকে নিয়ে। ব্লন্টলির মতে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান হল রাষ্ট্রের বিজ্ঞান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মুখ্য আলােচ্য বিষয় রাষ্ট্র ও সরকার। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সিলি প্রায় একই ধরনের অভিমত প্রকাশ করে বলেছেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একমাত্র আলােচ্য বিষয় সরকার। তিনি রাষ্ট্রঅপেক্ষা সরকারকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। উইলােবি মনে করতেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আলােচনার ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—(i) রাষ্ট্র, (ii) সরকার ও (iii) আইন। এই আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতেই রাষ্ট্র ও সরকারকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযােগ্য স্থান দেওয়া হয়েছে।
■ সীমাবদ্ধতা :রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনার ক্ষেত্রে আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ সাবেকি অভিমতের বিরােধিতা করেছেন। তাদের মতে, এরূপ আলােচনা সংকীর্ণতাপূর্ণ। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মহল মনে করেন, সদ্য সৃষ্টি হওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রকৃতি লক্ষ করলে দেখা যাবে তাদের ওপর জোর করে রাষ্ট্রব্যবস্থা চাপাননা হচ্ছে। তা ছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের আলােচনা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলােচনার ক্ষেত্রে স্থান করে নেওয়ার ফলে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলােচনার কিছুটা হলেও অবসান ঘটেছে। ফলস্বরূপ রাষ্ট্রবিজ্ঞান তার চিরাচরিত বন্ধন ত্যাগ করে সমাজের উল্লেখযােগ্য বিষয়গুলির আলােচনায় অংশগ্রহণ করতে পারছে। ডেভিড ইস্টন বলেছেন, সম্পদ নিয়ে সৃষ্ট যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত, তার সমাধান সূত্র কখনােই রাষ্ট্রকেন্দ্রিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান আললাচনা করতে পারত না, যা সম্ভব হয়েছে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আলােচনা অবসানের মাধ্যমে।
■ উপসংহার : সবশেষে বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আলােচনার ক্ষেত্রে সাবেকি অভিমত যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তেমনি তার সীমাবদ্ধতাও উল্লেখযােগ্য স্থান দখল করে নিয়েছে।
Tags
Political Science
